কুড়িগ্রামে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে দিনব্যাপী নাগরিক সমাজভিত্তিক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘তথ্য জানি, অধিকার মানি’ প্রতিপাদ্যে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে খলিলগঞ্জের অভিনন্দন কনভেনশন সেন্টারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের যৌথ সহযোগিতায় পরিচালিত ‘সুশীল—সাপোর্টিং দ্য ইউনিটি অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি অব সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনস (সিএসও) টু আপহোল্ড হিউম্যান রাইটস, ন্যাশনাল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড রুল অব ল ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা পর্যায়ের ক্যাম্পেইনটি বাস্তবায়ন করে স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উদয়াঙ্কুর সেবা সংস্থা (ইউএসএস) ও কুড়িগ্রাম সিএসও হাব।
অনুষ্ঠানে জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুর রশিদ, জেলা পরিসংখ্যান অফিসের উপপরিচালক লাইলুন নাহার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী নূর আলম, শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আসিফ সাহারিয়ারসহ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, মানবাধিকারকর্মী, যুবসমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকেরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কুড়িগ্রাম জেলার সভাপতি রওশন আরা। সঞ্চালনা করেন গ্রিন ভিলেজ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও কুড়িগ্রাম সিএসও হাবের সাধারণ সম্পাদক এম রশিদ আলী (মাস্টার)। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউএসএস প্রকল্পের ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম এবং কুড়িগ্রাম সিএসও হাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন।
জবাবদিহিমূলক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনায় বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তথ্যের সহজলভ্যতা ও অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুর রশিদ হিজড়া সম্প্রদায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নিজ নিজ এলাকায় বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।
ক্যাম্পেইনে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কীভাবে এ আইন ব্যবহার করে নিজেদের সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারে, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজনে সচেতনতামূলক আলোচনা সভার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়।
আয়োজকেরা জানান, নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর (সিএসও) সাংগঠনিক সক্ষমতা ও টেকসই ভিত্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে মানবাধিকার ও সুশাসন সুসংহত করতে এ ধরনের ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে। আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের সমন্বিত সহযোগিতায় জেলা পর্যায়ের এ প্রচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
প্রতিনিধি/আরএইচ