দেশের প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে নামার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের

দেশবার্তা প্রতিবেদক

অর্থ-বাণিজ্য

জ্বালানি খাতের ক্রমবর্ধমান সংকট, আর্থিক খাতের ভঙ্গুরতা এবং দুর্বল রাজস্ব আহরণসহ দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর

2026-10-06T14:56:55+06:00
2026-10-06T14:56:55+06:00
বুধবার ● ৭ অক্টোবর ২০২৬,
২২ আশ্বিন ১৪৩৩
 ইপেপার   আর্কাইভ   ভিডিও 
চলমান বার্তা:
অর্থ-বাণিজ্য
দেশের প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে নামার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের
দেশবার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৬ পিএম 
⏲
ফাইল ছবি
জ্বালানি খাতের ক্রমবর্ধমান সংকট, আর্থিক খাতের ভঙ্গুরতা এবং দুর্বল রাজস্ব আহরণসহ দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে পড়েছে বাংলাদেশে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে আর্থিক, জ্বালানি ও রাজস্ব খাতে দ্রুত ও গভীর সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটি ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩.৪ শতাংশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে বর্তমানে বিনিয়োগ কার্যক্রম অত্যন্ত মন্থর, রপ্তানি গতি হারিয়েছে এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি বজায় রয়েছে। এর ফলে একদিকে সাধারণ পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমেছে, অন্যদিকে ব্যবসার পরিচালন ব্যয় বেড়ে গেছে। পাশাপাশি আর্থিক খাতের ভঙ্গুরতা ঋণ মধ্যস্থতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে ধারাবাহিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং সীমিত রাজস্ব সংস্থানের কারণে সরকারি বড় বিনিয়োগ কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে শক্তিশালী রেমিটেন্স প্রবাহ এবং ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সহায়তায় বাহ্যিক খাত কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক আশা করছে, জ্বালানি সরবরাহ ক্রমান্বয়ে সহজ হলে এবং সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের গতি বাড়লে ২০২৮ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসম বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে ও বেসরকারি বিনিয়োগ-চালিত অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ এবং জ্বালানি খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার প্রয়োজন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, দরিদ্রদের সুরক্ষার পাশাপাশি আরও বেশি ও উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলোকে ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশকে জরুরি ভিত্তিতে সাড়া দিতে হবে। এখন আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই, এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার উপযুক্ত সময়।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে দারিদ্র্য ও বৈষম্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গত বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। বর্তমানে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি থমকে গেছে এবং বিপুল সংখ্যক নারী চাকরি হারিয়েছেন। এদিকে ব্যাংকিং খাতের সার্বিক দুর্বলতা আরও তীব্র হয়েছে, যেখানে খেলাপি ঋণের হার ডিসেম্বর ২০২৫-এর ৩০.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে জুন ২০২৬-এ ৩৩.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

দেশের রাজস্ব আদায়ের চিত্র হতাশাজনক; জিডিপির মাত্র ৮.৩ শতাংশ রাজস্ব আদায় হচ্ছে যা বিশ্বজুড়ে অন্যতম সর্বনিম্ন পর্যায় এবং এর ফলে জনকল্যাণমূলক খাতে সরকারি ব্যয় সংকুচিত হচ্ছে। অন্যদিকে ২০২৫ অর্থবছরের ৩.৫ শতাংশ থেকে রাজস্ব ঘাটতি বেড়ে ২০২৬ অর্থবছরে জিডিপির ৩.৯ শতাংশে পৌঁছেছে।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি এবং কৃষি ভর্তুকি দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে কিছুটা রক্ষা করলেও বাস্তবে প্রায় অর্ধেক দরিদ্রতম পরিবার কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নেই। বিশ্বব্যাংক মনে করে, উন্নততর লক্ষ্য নির্ধারণের মাধ্যমে এসব কর্মসূচির দারিদ্র্য-প্রতিরোধমূলক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সরকারের ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণ করা গেলে তা লক্ষ্য নির্ধারণ এবং আওতার ঘাটতি মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে। খাদ্য ভর্তুকি একত্র করা এবং নগদ অর্থ কর্মসূচির সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণের সঙ্গে 'ফ্যামিলি কার্ড' যুক্ত করা হলে অতিরিক্ত ২৮.৫ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের দক্ষিণ এশিয়া অর্থনৈতিক হালনাগাদের পরিপূরক অংশ হিসেবে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে বৈশ্বিক ধাক্কা সত্ত্বেও এ বছর দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ৬.৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে, যা ২০২৭ সালে কিছুটা কমে ৬.৭ শতাংশ দাঁড়াতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ার সার্বিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়োহানেস জুট জানান, প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিবেশে দক্ষিণ এশিয়া অসাধারণ স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শন করেছে। কিন্তু এই ইতিবাচক গতি ধরে রাখতে এবং যুবসমাজের জন্য আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে অঞ্চলটিকে প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে দ্রুত বর্ধনশীল এআই গ্লোবাল ভ্যালু চেইন দ্বারা সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী নতুন নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে দেশগুলোর উচিত দক্ষতা, অবকাঠামো এবং সহায়ক কর্মপরিবেশে বিনিয়োগ করা, যা কর্মী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এআই-এর পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সক্ষম করে তুলবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কৌশলগত ব্যবহার দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবৃদ্ধির নতুন উৎস তৈরি করতে পারে বলে বিশ্বব্যাংক উল্লেখ করেছে। এআই ব্যবহারে উন্নত দেশের তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও ভারতে কৃষি আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং বাংলাদেশে রেটিনাল স্ক্রিনিংয়ের মতো জনসেবায় প্রযুক্তিটির উদ্ভাবনী প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রানজিস্কা ওনসোর্গে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গ্রহণ শ্রম উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রপ্তানির বৈচিত্র্য ও সুযোগ সম্প্রসারণ এবং জনসেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার সার্বিক উন্নয়নের গতিপথ বদলে দেওয়ার বিশাল সম্ভাবনা রাখে। তবে এই প্রযুক্তির সুদূরপ্রসারী সুবিধাগুলো বাস্তবে পেতে হলে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোকে অবশ্যই সেই মৌলিক ও অবকাঠামোগত ঘাটতিগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দূর করতে হবে, যা এআই গ্রহণের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।

দেশবার্তা/একে


সর্বশেষ সংবাদ 

তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা সরাতে ভবিষ্যতে লাগবে গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ফ্রান্স জুড়ে শিক্ষার্থীদের ব্লকেড, শত শত স্কুলে পাঠদান ব্যাহত
বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান রাষ্ট্রপতির
দিনে অন্তত ১৫ বার ‘ভালোবাসি’ বলেন রাশমিকা
‘রূপে আছে নেশা, চোখে ছলনা’

সর্বাধিক পঠিত 

টেকনাফে ৩ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১
অচল এক ও দুই টাকার কয়েন, নিচ্ছে না ব্যাংকও
যশোরে বিশ্ববসতি দিবস ২০২৬ পালিত
কুড়িগ্রামে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত: ‘শিক্ষকদের সুরক্ষা দেওয়ার আহবান
পুশইন ঠেকানোর কৌশলে প্রশংসায় ভাসছে বিজিবি
অর্থ-বাণিজ্য- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]