দেশে অ্যাপভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের ব্যবহার দ্রুত গতিতে বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই শেষে ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি। এক বছর আগে অর্থাৎ গত বছরের আগস্টে এ সংখ্যা ছিল মাত্র ৭১ লাখ ৬৬ হাজার। এক বছরের ব্যবধানে অ্যাপ ব্যবহারকারী বেড়েছে প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ বা প্রায় তিন গুণ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের নভেম্বরেও ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহারকারী ছিল ৮৫ লাখ ৭২ হাজার। তবে ডিসেম্বরে তা একলাফে ১ কোটি ৪৯ লাখ ছাড়িয়ে যায় এবং ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে চলতি জুলাইয়ে ২ কোটি ৯ লাখ ৭৫ হাজারে পৌঁছায়। মোট ব্যবহারকারীদের মধ্যে পুরুষ ১ কোটি ৬৭ লাখ ৭২ হাজার এবং নারী ৩৮ লাখের বেশি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অ্যাপ ব্যবহারকারী বৃদ্ধির পেছনে ‘বাংলা কিউআর’-এর প্রসার বড় ভূমিকা পালন করছে। ২০২৩ সালে আন্তঃব্যাংক কোডভিত্তিক লেনদেনের জন্য ‘বাংলা কিউআর’ চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে সব প্রতিষ্ঠানের কোডভিত্তিক লেনদেন বাংলা কিউআরের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিউআরের মাধ্যমে লেনদেনের অর্থ দ্রুত ব্যবসায়ীদের অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া এবং যেকোনো ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ দিয়ে পরিশোধের সুবিধা থাকায় ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এ বিষয়ে বলেন, একসময় অ্যাপভিত্তিক লেনদেনকে মূলত এমএফএসের সঙ্গে সম্পর্কিত মনে করা হতো। বাংলা কিউআর চালুর পর ব্যাংক ও এমএফএসসহ সব প্রতিষ্ঠানই এর গুরুত্ব বুঝতে শুরু করেছে। যেসব ব্যাংকের অ্যাপ ছিল না, তাদেরও এ ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে অ্যাপ ব্যবহারকারী ও লেনদেন দুটিই বাড়ছে।
এদিকে অ্যাপের ব্যবহার বাড়লেও ব্রাউজারভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন কমছে। জুলাই শেষে ব্রাউজারভিত্তিক ব্যবহারকারী দাঁড়িয়েছে ২৪ লাখ ৮৯ হাজারে। তবে অ্যাপ ও ব্রাউজার মিলিয়ে মোট ইন্টারনেট ব্যাংকিং গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৩৪ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি, যা গত বছরের আগস্টে ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ৬৭ হাজার।
গ্রাহকের পাশাপাশি লাফিয়ে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও। গত জুলাইয়ে ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে ১ লাখ ৭৪ ১২৯ কোটি টাকা, যা গত বছরের আগস্টে ছিল ১ লাখ ১২ ৩০৪ কোটি টাকা। তবে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ লেনদেন রেকর্ড করা হয়েছে গত জুনে (১ লাখ ৮৪ ৩৪৯ কোটি টাকা), যার পেছনে কোরবানির ঈদের কেনাকাটার প্রভাব ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশবার্তা/একে