সাতক্ষীরায় মারামারি ঠেকাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে জাকারিয়া খান (১৯) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মুহিদ হাসান রনি নামে এক মাদ্রাসাছাত্রকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের প্রাণিসম্পদ অফিসের প্রধান ফটকের পাশে রবিউল ইসলামের চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জাকারিয়া খান সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়ার রুচিরা বেকারির মালিক আব্দুল গফুর খানের ছেলে। তিনি সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং ফলের অপেক্ষায় ছিলেন।
চা বিক্রেতা রবিউল ইসলাম জানান, শুক্রবার বিকেল থেকে প্রাণিসম্পদ অফিস মোড়ে যুবদল ও ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা চলছিল। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে ইটাগাছা এলাকার কয়েকজন কিশোর তাঁর কাছে সিগারেট চায়। সিগারেট না দেওয়ায় তারা তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকে।
রবিউল ইসলাম জানান, পরে তিনি ফোন করে তাঁর ভাইপো বাপ্পী হাসানকে ডেকে আনেন। বাপ্পী দোকানে এসে বিষয়টি জানতে চাইলে ওই কিশোররা তাঁকে মারধর শুরু করে। এ সময় বাপ্পীকে রক্ষা করতে জাকারিয়া এগিয়ে এলে মুহিদ হাসান রনি তাঁকে ছুরিকাঘাত করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আহত জাকারিয়াকে রাত ১২টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর চাচা ইসমাইল হোসেন জানান, ছুরির আঘাত তাঁর ফুসফুসে লাগে। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
আটক মুহিদ হাসান রনি শহরের ইটাগাছা এলাকার ফিরোজউদ্দিনের ছেলে। সে শহরের আলিয়া মাদ্রাসার আলিম শ্রেণির ছাত্র।
সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাহীদুর রহমান বলেন, জাকারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
নিহতের চাচা ইসমাইল হোসেন জানান, শনিবার বাদ আসর সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে জাকারিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।