মানিকগঞ্জের কালীগঙ্গা নদীর বেউথা ঘাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। প্রতিযোগিতাকে ঘিরে নদীর দুই পাড়ে নামে মানুষের ঢল। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা জড়ো হতে থাকেন। দুপুরের পর নদীর দুই পাড় রূপ নেয় জনসমুদ্রে।
শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা বিএনপির আয়োজনে নৌকা বাইচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন খাদ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আফরোজা খানম রিতা। প্রতিযোগিতায় মানিকগঞ্জসহ কুড়িগ্রামের রৌমারী, টাঙ্গাইলের নাগরপুর, পাবনার সাঁথিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে চার ক্যাটাগরির মোট ২২টি নৌকা অংশ নেয়।
এর মধ্যে খেল্লা-গয়ইটা ১০টি, ঘাসি-ছিপা ৫টি, ছান্দি ৪টি এবং পানসি ৩টি নৌকা ছিল। পাশাপাশি ৭০ ও ৮০ হাত দীর্ঘ দুটি কলাগাছের ভেলাও অংশ নেয় আয়োজনে।
বাইচে অংশ নেওয়া নৌকাগুলোর মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ ছিল কুড়িগ্রামের রৌমারী থেকে আসা খেল্লা নৌকা ‘মায়ের দোয়া’। নৌকাটি গত ৩০ সেপ্টেম্বর রৌমারীর বন্দবেড় ইউনিয়নের বাগুয়ারচর গ্রাম থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে মানিকগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেয়। বিভিন্ন নদীপথ পাড়ি দিয়ে তিন দিনে কালীগঙ্গার বেউথা ঘাটে পৌঁছায় নৌকাটি।
নৌকাটির পরিচালক মজিবুর রহমান জানান, ভারতের শাল কাঠ দিয়ে তৈরি ‘মায়ের দোয়া’ নৌকাটি বানাতে প্রায় ছয় লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এক বছর ধরে নৌকাটি তৈরির পর এই প্রথম কোনো নৌকা বাইচে অংশ নেয় তারা।
নির্ধারিত দূরত্বে নৌকাগুলো ছুটে চলার সময় বৈঠার ছন্দ আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে কালীগঙ্গার দুই পাড়। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে উপভোগ করেন গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন।
আয়োজকেরা জানান, বাইচে অংশ নেওয়া প্রতিটি নৌকার জন্য ছিল বিশেষ পুরস্কার। চারটি ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের জন্য মোটরসাইকেল, ইলেকট্রিক বাইক ও বিভিন্ন আকারের ফ্রিজসহ আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়। প্রতিটি নৌকার জন্য ছিল পিতলের কাপও। এছাড়া ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নৌকা ও ব্যক্তিদের জন্যও ছিল টেলিভিশন, প্রেসার কুকার ও রাইস কুকারসহ বিভিন্ন পুরস্কার।
নৌকাবাইচ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আ তা ম জহীর আলম খান লোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌকাবাইচ কমিটির সদস্য-সচিব মাসুদ পারভেজ, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর , জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খানসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে নৌকা বাইচের সংস্কৃতি তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ