চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনায় প্রস্তাবিত ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক কনসেশন চুক্তি বাতিল এবং চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে আগামী ৫ অক্টোবর দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ‘বন্দর রক্ষা কমিটি’।
শনিবার (৩ অক্টোবর) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু ও শ্রমিক নেতারা এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তারা জানান, ৫ অক্টোবরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে সরকার সুস্পষ্ট পদক্ষেপ না নিলে বন্দরের প্রধান ফটকের অবস্থান কর্মসূচি থেকে পরবর্তী বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ফজলুল কবির মিন্টু অভিযোগ করেন, গত ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় কৌশলগত ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ অবকাঠামো হস্তান্তরের প্রস্তাবটি মূল এজেন্ডায় না রেখে ‘বিবিধ’ এজেন্ডায় উপস্থাপন করে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি এভাবে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থে এনসিটি পরিচালনায় রাষ্ট্রীয় আয়, সক্ষমতা বৃদ্ধি, অটোমেশন প্রযুক্তি ও আর্থিক সুবিধার একটি স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তুলনামূলক মূল্যায়ন জনগণের সামনে প্রকাশ করা জরুরি। পাশাপাশি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের সঙ্গে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের ২২ বছরের চুক্তির অভিজ্ঞতাও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, এনসিটি ও সিসিটির মতো কৌশলগত অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি কনসেশনে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা জনগণের সামনে স্পষ্ট করা দরকার। এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতি, রাজস্ব, কর্মসংস্থান ও জাতীয় কৌশলগত স্বার্থে কী ধরনের সুবিধা ও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন প্রকাশ করা উচিত।
ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ যদি নীতি হয়, তাহলে এনসিটি ও সিসিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠান আগে কেন?
জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম বলেন, বন্দর রক্ষা কমিটি দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করে আসছে। কিন্তু এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
নেতারা বলেন, তারা বিদেশি বিনিয়োগ বা আধুনিক প্রযুক্তির বিরোধী নন। তবে বন্দরের পরিচালনা দীর্ঘমেয়াদে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা, রাজস্ব, কর্মসংস্থান এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। ইতিমধ্যে কালো ও লাল পতাকা মিছিল, মশাল মিছিল, বিক্ষোভ ও প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে তারা জানান।
সংবাদ সম্মেলন থেকে দলমত–নির্বিশেষে চট্টগ্রাম বন্দর ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
প্রতিনিধি/আরএইচ