এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ অর্থনৈতিক শক্তি জাপানে আশঙ্কাজনকভাবে বিস্তার লাভ করছে যৌন পর্যটন। দেশটির রাজধানী টোকিওর পার্ক ও রাস্তার অলিগলিতে বিদেশি পর্যটক ও পুরুষদের সমাগমের পাশাপাশি স্থানীয় উদীয়মান তরুণীদের এই পেশায় জড়িয়ে পড়ার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের চলমান অর্থনৈতিক মন্দা, জাপানি মুদ্রা ইয়েনের রেকর্ড দরপতন এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দারিদ্র্য বৃদ্ধিই এই সংকটের প্রধান অনুঘটক।
যুব সুরক্ষায় নিয়োজিত সংস্থা ‘লিয়াঁজো কাউন্সিল প্রটেক্টিং ইউথস’ (সেইবোরেন)-এর মহাসচিব ইয়োশিহিদে তানাকা জানান, করোনা মহামারি-উত্তর সময়ে পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। টোকিওতে বর্তমানে আগত বিদেশি পুরুষদের মধ্যে শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ ও এশীয়দের বড় উপস্থিতি রয়েছে, যাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চীনের নাগরিক।
মূলত করোনা মহামারির অর্থনৈতিক ধাক্কা এবং বিভিন্ন ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধের তাগিদে ২০ বছর বা তার কম বয়সী তরুণীরা জীবনধারণের জন্য এই পেশা বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে, ইয়েনের মান কমে যাওয়ায় বিদেশি পর্যটকদের কাছে জাপান এখন সুলভে যৌন পরিষেবা পাওয়ার একটি নয়া গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
এর পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধী চক্র ও সামাজিক নেটওয়ার্ক তরুণীদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই ব্যবসায় নামাচ্ছ। পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া চক্রগুলোর বড় অংশই ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী, যারা দেশজুড়ে প্রায় ৩৫০টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে নারীদের এই কাজে নিয়োজিত করত।
এই পেশায় যুক্ত হওয়ার ফলে জাপানি তরুণীরা চরম শারীরিক নির্যাতন ও বিদেশি গ্রাহকদের হাতে নিগ্রহের পাশাপাশি মারাত্মক যৌনসংক্রমণজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এখন জাপানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
জাপানের বিরোধী দল ‘কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি’র প্রভাবশালী সদস্য কাজুনোরি ইয়ামানোই এই পরিস্থিতিকে একটি আশঙ্কাজনক সামাজিক সংকট হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘জাপান টাইমস’কে তিনি বলেন, জাপান এমন এক অবস্থায় উপনীত হচ্ছে যেখানে বিদেশি পুরুষেরা সহজেই নারীদের কেনাবেচা বা পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এটি কেবল অভ্যন্তরীণ সামাজিক সমস্যা নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাপানি নারীদের ভাবমূর্তি ও মর্যাদাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। সূত্র: ফার্স্টপোস্ট
দেশবার্তা/একে