সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মারামারি থামাতে গিয়ে রাসেল আহমদ শাহ (২৩) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, রাসেল ওই বিরোধে জড়িত ছিলেন না। তিনি দুই পক্ষের ঝগড়া থামাতে গিয়ে হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ১২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের চকেরবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাসেল ওই এলাকার শারুক মিয়ার ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রথমে তাঁকে লাকড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। পরে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলামের হযরত শাহ তৈয়ব ছৈলানি (রহ.) মাজার ও মসজিদ এবং ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা নিয়ে চকেরবাজার এলাকার শাহ ও শেখ গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এই বিরোধের জেরও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সঙ্গে রয়েছে।
গত ২২ আগস্ট একই মাজার ও মসজিদকে কেন্দ্র করে শাহ ও শেখ গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হযরত শাহ তৈয়ব ছৈলানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা নিয়েও দুই পক্ষের বিরোধ রয়েছে। গত ২৯ জুলাই ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়াকফ প্রশাসন থেকে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিককে সভাপতি এবং দক্ষিণ সুরমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সহসভাপতি করে নয় সদস্যের একটি কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটিতে মোতাওয়াল্লি হিসেবে দায়িত্ব পান ফজলু মিয়া।
পরে কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শাহ আব্দুল মান্নান হাইকোর্টে রিট করেন। ১৬ আগস্ট শুনানি শেষে হাইকোর্ট নতুন অনুমোদিত কমিটি বহাল রাখেন। তবে সাময়িকভাবে মোতাওয়াল্লি ফজলু মিয়ার কার্যক্রম স্থগিত করে আবেদ রাজাকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এরপর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা চলছিল।
রাসেলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চকেরবাজার এলাকায় শাহ ও শেখ গোষ্ঠীর মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হন। খবর পেয়ে দক্ষিণ সুরমা ও মোগলাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সিসিটিভিতে শনাক্ত ১২, এখনো আটক নেই
রাসেল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। তবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ১২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদুল হক ভূইয়া বলেন, ‘এখনও মামলা হয়নি। ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের ধরতে পুলিশের টিম কাজ করছে। আসামিদের গ্রেপ্তারেও পুলিশ চেষ্টা করছে।’
নিহত রাসেল আহমদ শাহের মরদেহ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। সেখানে তাঁর ময়নাতদন্ত চলছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ