দেশের রেস্তোরাঁ খাতের চাহিদা মেটানো, বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট নীতিমালার অধীনে সীমিত আকারে গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর পুরানা পল্টনের ফার্স হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব ইমরান হাসান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, বর্তমানে নগরভিত্তিক রেস্তোরাঁগুলোতে উচ্চমানের ও পর্যাপ্ত গরুর মাংসের ধারাবাহিক সরবরাহ বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। বিপরীতে চাহিদার তুলনায় বাজারে সরবরাহ অত্যন্ত নগণ্য।
গবাদিপশু পালন খাতের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, রেস্তোরাঁ খাতের মতো গবাদিপশু পালনও করপোরেট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। এর ফলে প্রান্তিক খামারিরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এছাড়া গো-খাদ্যের বাজারে সিন্ডিকেটের কারণে মূল্যবৃদ্ধি ঘটায় গ্রামাঞ্চলে পশু পালন অনেকাংশেই বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব মনে করেন, কঠোর তদারকি ও নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় গরুর মাংস আমদানির সুযোগ দেওয়া হলে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে মাংসের দাম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি খাদ্যের মান উন্নত হবে এবং পর্যটন ও আতিথেয়তা খাত আরও শক্তিশালী হবে।
সংগঠনটির নেতারা জানান, মাংসের অনিয়ন্ত্রিত দর ও সরবরাহ সংকটের কারণে রেস্তোরাঁগুলোকে অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভোক্তাদের খাবারের দামে। আমদানির সুযোগ তৈরি হলে রেস্তোরাঁ খাতের বিদ্যমান সংকট কিছুটা হলেও লাঘব হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের মে মাসেও দেশের বাজারে অতিরিক্ত দাম ও ঘাটতির কথা উল্লেখ করে গরুর মাংস আমদানির সুযোগ দেওয়ার একই দাবি জানিয়েছিল বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
দেশবার্তা/একে