দেশের চিনি শিল্প যখন ধারাবাহিকভাবে লোকসানের বৃত্তে বন্দি, তখন সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র নিয়ে মুনাফার নতুন রেকর্ড গড়েছে দর্শনার ৮৭ বছরের পুরনো প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড। মূল চিনি উৎপাদনে ঘাটতি থাকলেও ডিস্টিলারি বা মদ উৎপাদন বিভাগের ওপর ভর করে মুনাফার এই জোয়ার তৈরি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে ডিস্টিলারি বিভাগ থেকে ১৩২ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল সংস্থাটি। ৪ বছর পর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেই মুনাফা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকায়-যা চার বছরের ব্যবধানে প্রায় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি। এছাড়া সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে মুনাফার পাশাপাশি সরকারকে ১৫৩ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২১ সালে সরকার বিদেশি মদ আমদানিতে বিধিনিষেধ কঠোর করার পর থেকে বাজারে কেরুর পণ্যের চাহিদা হু-হু করে বাড়তে থাকে। চাহিদা সামাল দিতে কয়েক বছর আগের সনাতন পদ্ধতি বদলে কারখানায় বসানো হয়েছে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি। এতে হাতের স্পর্শ ছাড়াই দ্রুততম সময়ে উৎপাদন হচ্ছে গুণগত মানসম্পন্ন অ্যালকোহল। প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন খরচ ও সময় কমার পাশাপাশি গুণগত মান নিশ্চিত হওয়ায় বাজারে বিক্রিও বেড়েছে কয়েক গুণ।
দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের ডিস্টিলারি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রাজিবুল হাসান জানান, ডিস্টিলারি বিভাগে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৮০০ বোতল বাংলা মদ এবং ২ লাখ ৮ হাজার বোতল বিলাতি (ফরেন) মদ বিক্রি সম্ভব হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৬ হাজার বোতল বেশি।
প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক সাফল্য ও রাজস্বের বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, রাজস্বের বেশিরভাগটাই আসে আমাদের ডিস্টিলারিতে উৎপাদিত পরিশোধিত মদ তৈরির উপাদান বিক্রির মাধ্যমে। আমাদের লাভ ছাড়া সরকারকে রাজস্ব প্রদান করেছি প্রায় ১৫৩ কোটি টাকা।
দেশবার্তা/একে