দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি। বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে বিদায়ী ম্যাচে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে উৎসবের আবহ তৈরি করে আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে নিকোলাস ওতামেন্দি ও নিকো পাজকে দিয়ে দুটি গোল করানোর পাশাপাশি পেনাল্টি থেকে শেষ গোলটি করেন এলএমটেন। ম্যাচ শেষে হাসি-কান্না মিশ্রিত বিদায়ী বক্তব্যে তিনি নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়া, জাতীয় দলের অর্জন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক নানা কথা জানান।
বিদায়ী ভাষণে মাসখানেক আগে প্রয়াত পিতাকে স্মরণ করে মেসি বলেন, ‘কী বলব ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। মাথায় অনেক কিছুই ঘুরছে। আজকের এই রাতে সবার আগে যার কথা আমার মনে পড়ছে, তিনি আমার বাবা (হোর্হে মেসি)। আমি কেবল আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাতে পারি। দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই শার্টটির প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য ছিল এক বিরাট গর্বের বিষয়।’
জাতীয় দলের হয়ে সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা কখনও লড়াই থামাইনি, নিজেদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেওয়া বন্ধ করিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাটাই সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি। আমরা আবারও (২০২৬ আসরে) বিশ্বকাপ জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। বিশ্বকাপে নিজেদের সবকিছু ঢেলে দিয়েছিলাম আমরা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের জন্য অনেক বড় ছিল। আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে লড়াই করেছি, সারাজীবন লড়াই করেছি। কোনো সন্দেহ রাখবেন না যে, এই জার্সির জন্য আমরা সর্বদা আমাদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি।’
আন্তর্জাতিক অঙ্গন ছাড়ার আবেগঘন মুহূর্তে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক বলেন, ‘এখানে আর ফিরে আসতে না পারার ভাবনাটা ভীষণ কষ্টের। সত্যি বলছি, সারা জীবন আমি এখানে ফিরে আসতে চাইব। কারণ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলার চেয়ে সুন্দর আর কিছু একজন ফুটবলারের জীবনে হতে পারে না। আমি চিরকাল এখানে থাকতে চাই। কিন্তু মনে হচ্ছে, বিদায় বলার এটাই সঠিক সময়।’
সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সতীর্থদের ‘বীর যোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আমার সকল সতীর্থকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তোমরা আমার সব স্বপ্ন সত্যি করেছ– বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা। আমি সব সময় বীর যোদ্ধাদের দিয়ে পরিবেষ্টিত ছিলাম। আমি এই পরিবেশটাকে খুব মিস করব। আমি আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি যেখানেই গিয়েছি, স্টেডিয়াম সব সময় কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। মনে হতো আমরা যেখানেই খেলছি, সেটাই যেন আমাদের নিজেদের ঘর।’
ভবিষ্যতে আর্জেন্টিনা দলের ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা মিস করব। এখন থেকে আমি মাঠের বাইরে অন্য পাশে থাকব– এই ছেলেদের এবং এরপর যারা আসবে তাদের সবার জন্য শুভকামনা জানাব ও সমর্থন দিয়ে যাব। কঠিন সময় সামনে আসছে, আর সেই মুহূর্তগুলোতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, কারণ কিছু মানুষ আছে যারা জাতীয় দলের ব্যর্থতা দেখতে চায়। মহৎ কিছু অর্জন করতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ দল গড়ে তুলতে হবে।’
সবশেষে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার গর্ব ব্যক্ত করে মেসির বক্তব্য শেষ করেন, ‘আমি এই জায়গা ছেড়ে যেতে চাই না। আমি এই মাঠ ছেড়ে যেতে চাই না। আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি, আর আপনাদের সবাইকে আমি খুব মিস করব। আমি একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত। আমি নিজের স্বপ্নপূরণ করতে পেরে সত্যি গর্বিত।’
দেশবার্তা/একে