অনলাইন বেটিং (জুয়া) পরিচালনা এবং অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মঙ্গলবার পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মনোয়ার হোসেন (৪১), মো. মারুফ হোসেন হলি (২৭) ও ইলিয়াস হোসেন রাজু (২৬)। অভিযানে তাঁদের কাছ থেকে আলামত হিসেবে বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
জানা যায়, নিয়মিত সাইবার মনিটরিং করার সময় দেশে ও বিদেশে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্র নতুন নতুন নামে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার ওয়েবসাইট পরিচালনা করছে বলে জানতে পারে সিআইডি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব সাইটের লোভনীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে চলত অনলাইন জুয়া।
এসব বেটিং সাইটে অংশগ্রহণের জন্য ব্যবহারকারীদের শুরুতেই মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ব্যাংক হিসাব কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে টাকা জমা বা টপ-আপ করতে হতো। জমা করা টাকার সমপরিমাণ ‘ই-মানি’ বা ‘বট মানি’ আইডি অ্যাকাউন্টে যুক্ত হওয়ার পর তা দিয়ে লেনদেন চলত। এই ঘটনায় সিআইডি বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন থানায় একটি মামলা করে।
মামলার প্রাথমিক তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, বেটিং সাইটগুলোতে টাকা জমা ও উত্তোলনের জন্য ব্যবহৃত এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাবগুলো ঘন ঘন পরিবর্তন করা হতো। চক্রটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের একাধিক এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করত। পরবর্তীতে টেলিগ্রামসহ এনক্রিপ্টেড অ্যাপসের মাধ্যমে এসব হিসাবের তথ্য মূল পরিচালনাকারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো।
তদন্তে আরও উঠে আসে, অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ এজেন্টরা একত্রিত করার পর নিজস্ব কমিশন রেখে অবশিষ্ট টাকা বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেল এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করত।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা অনলাইন জুয়া ও অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। চক্রটির অন্য সদস্য, অর্থপাচারের প্রকৃত পরিমাণ ও বিদেশে অর্থ প্রেরণের সুনির্দিষ্ট নেটওয়ার্ক উন্মোচনে তাঁদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
সিআইডি জানিয়েছে, অনলাইন বেটিংয়ের সঙ্গে জড়িত দেশি-বিদেশি চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং অর্থপাচারের পূর্ণাঙ্গ চিত্র উদঘাটনে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণকে সব ধরনের অনলাইন জুয়া ও বেটিং থেকে দূরে থাকার এবং এসব অবৈধ লেনদেনের তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
দেশবার্তা/আইই/একে