ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়ে চার বছর বয়সী শিশু ওয়াইজ কুরুনী আভানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে একপেশে, খণ্ডিত ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক বক্তব্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুটির অকালমৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও অপূরণীয় ক্ষতি। এ ঘটনায় হাসপাতাল পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। তবে এই দুঃখজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত আক্রমণ, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার এবং চিকিৎসাব্যবস্থা সম্পর্কে ভুল, বিভ্রান্তিকর ও অবৈজ্ঞানিক তথ্য ছড়িয়ে জনরোষ উসকে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, ফেসবুকের মাধ্যমে প্রকাশ্যে হাসপাতালে মব সৃষ্টির ঘোষণাও দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের প্রচারণার ফলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা এবং সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এটি দেশের সামগ্রিক চিকিৎসাসেবাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শিশুর চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতালের বক্তব্য
হাসপাতালের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাতে চার বছর বয়সী শিশু ওয়াইজ কুরুনী আভান জ্বর, নাক দিয়ে রক্তপাত এবং হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বরের সন্দেহ নিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে আসে।
এ সময় পিআইসিইউতে কর্তব্যরত সিনিয়র ডিউটি স্পেশালিস্ট (জুনিয়র কনসালট্যান্ট) ডা. নজরুল ইসলাম শিশুটিকে দেখেন। তিনি প্রয়োজনীয় কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি ঢাকা শিশু হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মাহফুজা শিরীনের অধীনে শিশুটিকে ভর্তির পরামর্শ দেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ভর্তির পরপরই শিশুটির যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়, সেগুলোর ফলাফলে শরীরে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। এ কারণে শিশুটির চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা হয়।
বক্তব্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও উল্লেখ করে, প্রতিষ্ঠানটিতে ২৪ ঘণ্টা, বছরের ৩৬৫ দিন বিশেষজ্ঞ শিশু চিকিৎসকেরা সেবা দিয়ে থাকেন।
শিশু আভানের মৃত্যু ঘিরে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্য ও প্রচারণার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃত ক্লিনিক্যাল তথ্য তুলে ধরতেই এই বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
দেশবার্তা/আরএইচ