সিআরএস-এর হালনাগাদ করা এ সংখ্যাটি মে মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আগের সংস্করণে উল্লিখিত ৪২টি বিমানের সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। এই বৃদ্ধির অর্থ অবশ্য এই নয় যে মে মাসের পর আরও ৩৯টি বিমান হারিয়ে গেছে। সিআরএস জানিয়েছে, নতুন তথ্য পাওয়া গেলে এবং আগে রিপোর্ট করা হয়নি এমন ক্ষতির বিষয়টি শনাক্ত হলে তাদের এই হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৮ মাসে কোট ৮১টি যুদ্ধবিমান, সামরিক ড্রোন ও হেলিকপ্টার হারিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এসব সমরাস্ত্রের সম্মিলিত দাম ৩৩০ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের তদন্ত ও অনুসন্ধান বিষয়ক পার্লামেন্টারি সংস্থা কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে এ তথ্য। গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদনটি কংগ্রেসে জমা দিয়েছে সিআরএস। খবর নিউইয়র্ক পোস্ট।
গণমাধ্যমটি বলছে, ধ্বংস হওয়া এসব সামরিক এয়াক্রাফটের মধ্যে রয়েছে ১২টি এফ-১৫ ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান, একটি এফ-৩৫ লাইটনিং ২ স্টেলথ যুদ্ধবিমান, ২টি এ-১০ থান্ডারবোল্ট ২ অ্যাটাক এয়রক্রাফট বা আক্রমণকারী যুদ্ধবিমান। এর মধ্যে ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা নিজেদের বাহিনীর গুলিতে তিনটি এফ-১৫ই বিমান ভূপাতিত করে মার্কিন বাহিনী। এপ্রিলে ইরানের আকাশে যুদ্ধ অভিযানের সময় আরো একটি বিমান ধ্বংস হয়ে যায়। সিআরএস প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, সেপ্টেম্বরে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে ইরানের হামলার সময় আরো আটটি এফ-১৫ই বিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-৩৫এ-টি ১৯ মার্চ ইরানের হামলার সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে বিমানটি পুনরায় পরিষেবায় ফিরিয়ে আনা হয়। মোট ক্ষতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে রয়েছে ড্রোন। কংগ্রেসের প্রতিবেদনে দেয়া সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, সিআরএস-এর তালিকায় অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রিপার ড্রোনটি নজরদারি এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কাজে ব্যবহৃত হয়।
এছাড়া রয়েছে একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন, তিনটি এমকিউ-১ ড্রোন, একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি অ্যাটাক বা আক্রমনকারী হেলিকপ্টার, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড হালকা আক্রমণকারী (লাইট অ্যাটাক) হেলিকপ্টার এবং একটি এমএইচ-৬০ সিহক হেলিকপ্টার। ই-৩ সেন্ট্রি বিমানটির ক্ষতি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি আকাশপথে নজরদারি এবং কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল বা নিয়ন্ত্রণ ও নির্দেশনার সক্ষমতা প্রদান করে। বোয়িং ৭০৭ (Boeing 707) কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি এ বিমানটি মার্কিন বিমান বাহিনীতে আগে থেকেই খুব কম সংখ্যায় ব্যবহৃত হতো।
সিআরএস-এর হালনাগাদ করা এ সংখ্যাটি মে মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আগের সংস্করণে উল্লিখিত ৪২টি বিমানের সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। এই বৃদ্ধির অর্থ অবশ্য এই নয় যে মে মাসের পর আরও ৩৯টি বিমান হারিয়ে গেছে। সিআরএস জানিয়েছে, নতুন তথ্য পাওয়া গেলে এবং আগে রিপোর্ট করা হয়নি এমন ক্ষতির বিষয়টি শনাক্ত হলে তাদের এই হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।
দেশবার্তা/এমআর