শারদীয় দুর্গোপূজার মহা বিজয়াদশমীর আনন্দ আর বিষাদের সুরের মাঝেই গ্রামীণ জনপদে বেজে উঠেছিল উৎসবের অন্যরকম এক বাদ্য। বুধবার পড়ন্ত বিকালে দুর্গাপূজার মহা বিজয়াদশমী উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী বলুয়া নদীর শান্ত বুকে স্বর্গীয় বাশিরাম স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক বর্ণিল ও রোমাঞ্চকর নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা।
বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলা আর প্রতিমা বিসর্জনের পূর্বলগ্নে নদীমাতৃক বাংলার এই প্রাচীন ঐতিহ্য দেখতে বলুয়া নদীর দুই পাড়ে উপচে পড়া ভিড় জেমিয়ে তুলেছিল এক অনন্য উৎসবমুখর পরিবেশ। শরতের স্নিগ্ধ রোদ আর স্বচ্ছ জলের আলপনায় নদীর বুকে তখন সাজ সাজ রব। বৈঠার জাদুকরী ছন্দে চঞ্চল হয়ে ওঠা জলের ঢেউ আর দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো চারপাশ।
প্রতিযোগিতায় গ্রামীণ ঐতিহ্য ও উদ্দীপনা নিয়ে মোট ৮টি সুসজ্জিত নৌকা অংশ নেয়। দলগুলো হলো-সোনা বাঁধাল, দাদপুর, বনবিবি, চর মাগুরা, কুলপোতা, মহিষাডাংগা কালিমাতা, মহিষাডাংগা জয়মা এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী নৌকার দল।নৌকাগুলোর গতি আর মাঝিদের সমস্বরে গাওয়া ভাটিয়ালি সুরে নদীর দুই পাড়ের হাজারো দর্শক মেতে ওঠেন আনন্দ-উল্লাসে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ও তীব্র উত্তেজনার মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হয় চূড়ান্ত বিজয়ীদের নাম।
এতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করার গৌরব অর্জন করে কুলপোতা। দ্বিতীয় স্থান দখল করে চর মাগুরা এবং তৃতীয় স্থান লাভ করে মহিষাডাংগা কালীমাতা। বাইচ শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। স্বর্গীয় বাশিরাম স্মরণে আয়োজিত এই জমজমাট অনুষ্ঠানে কিশোরী মোহন সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য কাজী আলাউদ্দিন।
সহকারী অধ্যাপক হিরুলাল বিশ্বাস এবং দেবব্রত বিশ্বাস দেবুর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীদুর রহমান, কুল্যা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওমর ছাকী পলাশ, বাবু চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস, মেহেদী হাসান সগর প্রমুখ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বহু রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়াদশমীর এই অনন্য নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা বলুয়া নদীর পাড়ে উপস্থিত হাজারো মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘদিন এক অমলিন আনন্দের রেশ ছড়িয়ে রাখবে।
দেশবার্তা/জেএ