ইউরোপে ২০২৬ সালের মে মাসের শেষ দিক থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত নজিরবিহীন ভয়াবহ তাপপ্রবাহে বিভিন্ন শহরে আনুমানিক ৫০ হাজার ৩৯১ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, মহাদেশটিতে তাপজনিত মৃত্যুর দিক থেকে এটি এ যাবৎকালের রেকর্ডে সবচেয়ে প্রাণঘাতী গ্রীষ্মকাল।
‘নেচার হেলথ’ সাময়িকীতে প্রকাশিত পিয়ার-রিভিউ করা দুটি গবেষণাপত্রের ওপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
গবেষণার তথ্যমতে, গত ২৬ বছরের মধ্যে তীব্র তাপপ্রবাহে মৃত্যুর এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা, যা ২০০৩ ও ২০২২ সালের ইউরোপের বড় ধরনের তাপপ্রবাহজনিত প্রাণহানির চেয়েও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। যে শহরগুলোতে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বসবাস করেন।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, ৫০ হাজার ৩৯১ জন মৃতের মধ্যে ৩২ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর জন্য সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করা হচ্ছে। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট দূষণ বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়িয়ে তাপপ্রবাহকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
গবেষণার অন্যতম লেখক ও লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক গবেষক ক্লেয়ার বার্নস বলেন, আমরা নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি, ইউরোপের বড় একটি অংশ জুড়ে ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালটি সম্ভবত তাপজনিত মৃত্যুর দিক থেকে রেকর্ড করা ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ গ্রীষ্মকাল ছিল।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব ঠেকানোর ক্ষেত্রে বিশ্ব অনেক পিছিয়ে রয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ ও দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে না পারলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
তুরস্কে জাতিসংঘের বার্ষিক জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে আন্তর্জাতিক নেতাদের সমবেত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে আশঙ্কাজনক এই পরিসংখ্যান সামনে এল।
এর মাত্র কয়েক দিন আগে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে জানানো হয়, প্রাক্-শিল্প যুগের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ এখন কার্যত শেষ হয়ে গেছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। প্রাকৃতিক এই চরম দুর্যোগের ঘটনাগুলোর মধ্যে তাপপ্রবাহই সেখানে সবচেয়ে প্রাণঘাতী রূপ ধারণ করেছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, এ বছর পশ্চিম ইউরোপে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম দেখা গেছে। এ সময় তাপমাত্রা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড়ের তুলনায় প্রায় ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৫.২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) বেশি ছিল। এমনকি কিছু দেশে নির্দিষ্ট দিনে তাপমাত্রার পার্থক্য স্বাভাবিকের তুলনায় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।
দেশবার্তা/একে