আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে দিনরাত কাজ করতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনে যেসব ভুলত্রুটি ও দুর্বলতা চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে সামনে এগোতে হবে। একই ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়াতে সতর্ক থাকতে হবে।
শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৭-২০২৮ কার্যকালের জন্য ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির নির্বাচনের লক্ষ্যে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা থামব না, আমাদের থামার সুযোগ নেই। জাতীয় নির্বাচনের ভুলগুলো পর্যালোচনা হয়েছে। এবার সেগুলোর আলোকে কাজ করলে আশা করি আর ভুল হবে না।’
জাতীয় নির্বাচনে জনগণ জামায়াতকে ভোট দিলেও সেই ভোট ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, জনগণই ঠিক করবে, দেশ কারা পরিচালনা করবে। মানুষ তাঁদের কাছে এসে বলে, তারা ভোট দিয়েছিল, কিন্তু জামায়াত তা রক্ষা করতে পারেনি। এ বিষয়ে নিজেদের দুর্বলতার কথা স্বীকার করতে হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, যাঁদের প্রার্থী করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে আল্লাহর দেওয়া জ্ঞানের বড় নিয়ামত রয়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রাচীর গড়ে তুলতে হবে। কোনো চোরকে আর ছাড় দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমাজ পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাঁরা আর বসে বসে তামাশা দেখবেন না। সংগতভাবেই প্রতিবাদ করবেন এবং যেখানে সামর্থ্য থাকবে, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। আসন্ন নির্বাচনে সৎ, যোগ্য ও খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে রুকনদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে জামায়াতের আমির সংগঠনের লক্ষ্য ও কর্মীদের দায়িত্ব নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য আল্লাহর জান্নাতে যাওয়া। যাঁরা দিন এনে দিন খান, আল্লাহর পথে তাঁদের অবদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ৭০ শতাংশ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের অধিকাংশই দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ যাঁদের সম্পদ দিয়েছেন, তাঁদের উচিত সেই নিয়ামতের যথাযথ কৃতজ্ঞতা আদায় করা। জান্নাতের জন্য নিজেদের ঠিকানা তৈরি করতে হবে। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কিছুই করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি প্রতি মুহূর্তে তাঁর সাহায্য কামনা করার আহ্বান জানান।
ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের সাংগঠনিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জামায়াতের আমির বলেন, একসময় দুই মহানগরীর অবস্থাই অনেক দুর্বল ছিল। নেতাকর্মীদের ত্যাগ, কোরবানি ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সংগঠন বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছে। সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশ কোরআনের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
রুকনিয়াত কোনো পদ-পদবি নয়
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রুকনিয়াত কোনো পদ-পদবি নয়, এটি একটি মান। একে ক্ষমতা মনে করলে ভুল হবে। রুকন হিসেবে জীবনের নীতি-নৈতিকতার মান বজায় এবং আরও দায়িত্বশীল হওয়া জরুরি।
তিনি বলেন, রুকনদের মান ও রুহানিয়াত যত শক্তিশালী হবে, সংগঠনও তত শক্তিশালী হবে। আসন্ন মেয়র নির্বাচনে ত্যাগ-তিতিক্ষার প্রমাণ দিয়ে মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনে সফলতা অর্জনের জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, রুকনের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি সদস্যদের মান, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতাও বাড়াতে হবে। আস্থাভাজন নেতৃত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
১৩ হাজারের বেশি রুকনের ভোট
সম্মেলনটি দুটি পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত চলে নির্বাচনী অধিবেশন। এতে ২০২৭-২০২৮ কার্যকালের জন্য ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির নির্বাচনে ভোট দেন ১৩ হাজারের বেশি রুকন। নির্বাচন পরিচালনা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসেন। তাঁকে সহযোগিতা করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য আ. সবুর ফকির।
বেলা ১১টা থেকে শুরু হয় সাংগঠনিক অধিবেশন। ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং মহানগরীর সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, মোবারক হোসেন ও নুরুল ইসলাম বুলবুল।
অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগরী উত্তরের উদ্যোগে তৈরি ‘নাগরিক সেবা’ নামের একটি অ্যাপ উদ্বোধন করেন ডা. শফিকুর রহমান। আয়োজকদের ভাষ্য, অ্যাপটিতে নাগরিকদের জন্য ৫০টির বেশি সেবামূলক সুবিধা রয়েছে।
দেশবার্তা/এসআইএস/একে