কুমিল্লার বরুড়ায় মাগরিবের নামাজ আদায়ের পর নিখোঁজ হওয়া মোবারক হোসেন নামের এক বৃদ্ধ দর্জির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার শাকপুর ইউনিয়নের চৌওড়ী গ্রামের চৌওড়ী কমিউনিটি ক্লিনিকের পেছনের একটি বাঁশঝাড় থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে; তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িত ব্যক্তির পরিচয় এখনো অজানা।
নিহত মোবারক হোসেন (৭৫) শাকপুর ইউনিয়নের চৌওড়ী গ্রামের মো. জালাল উদ্দীনের ছেলে। প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি বরুড়া বাজারে দর্জির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁর দুই ছেলে রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বরুড়া বাজারে দর্জির কাজ শেষে মোবারক হোসেন মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ হন। রাতভর পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা খোঁজখবর করলেও তাঁর সন্ধান মেলেনি। পরদিন শনিবার সকালে চৌওড়ী কমিউনিটি ক্লিনিকের পেছনের একটি বাঁশঝাড়ে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে বরুড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করে।
মাগরিবের নামাজের পর থেকে মরদেহ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত তিনি কোথায় ছিলেন, কারও সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল কি না এবং কীভাবে তাঁর মৃত্যু ঘটেছে এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো জানা যায়নি।বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতেই কেউ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর গলা কেটে হত্যা করেছে।
তবে কে বা কারা, কী কারণে তাঁকে হত্যা করেছে তা এখনো নিশ্চিত হয়নি বলে জানান ওসি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের পাশাপাশি অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন ওসি কাজী নাজমুল হক।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি ও কীটনাশকের একটি বোতল পাওয়া গেছে। তবে এসব আলামতের সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না, তা ময়নাতদন্ত ও বিস্তারিত তদন্তের পর স্পষ্ট হবে।
দীর্ঘদিন দর্জির কাজ করা মোবারক হোসেন এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ছিল। তবে এই তথ্যের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
নিখোঁজ হওয়া ও পরদিন বাড়ির কাছের বাঁশঝাড় থেকে গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁরা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
দেশবার্তা/জেএ