সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর মাধ্যমে সিজারের পর এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে অস্ত্রোপচারের প্রায় ২০ দিন পরও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অসুস্থ নবজাতকের মা বর্তমানে তালা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত ২ আগস্ট তালার পার্শ্ববর্তী কপিলমুনির 'করুণা ক্লিনিক' নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তরুনা পারভীন (৩৫) নামের এক নারীর সিজার করা হয় বলে জানা গেছে। পরিবারের অভিযোগ, গর্ভকাল পূর্ণ হওয়ার আগেই অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ছাড়াই অস্ত্রোপচার করে মাত্র দুই কেজি ওজনের নবজাতককে প্রসব করানো হয় এবং অস্ত্রোপচারের পরপরই নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
পরিবারের দাবি, নবজাতকের সংকটাপন্ন অবস্থার পর চিকিৎসক মখলেছুর রহমান তাঁদের দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এ সময় শিশুটির হৃদ্যন্ত্রে ছিদ্র থাকতে পারে বলেও জানানো হয়। তবে পরিবারের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে এক দিনের ব্যবধানে নবজাতকটির মৃত্যু হয়।
'আমার মতো যেন আর কোনো বাবা সন্তানহারা না হন' নবজাতকের বাবা নূর-আলী বলেন, সিজারের নামে অপরিপক্ব সন্তান প্রসব করিয়ে চিকিৎসক আমার সন্তানকে হারানোর পরিস্থিতি তৈরি করেছেন বলে আমি মনে করি। আমি চাই, ভবিষ্যতে আমার মতো আর কোনো বাবাকে যেন সন্তান হারানোর কষ্ট পেতে না হয়।
স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি সম্পর্কে তিনি বলেন, সন্তান মারা যাওয়ার পরপরই তাঁরা অস্ত্রোপচারজনিত জটিলতার বিষয়টি বুঝতে পারেননি। কিন্তু স্ত্রীর রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় তাঁরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে তালা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নূর-আলীর দাবি, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের পর জরায়ুর ভেতরে গর্ভফুলের কিছু অংশ রয়ে যাওয়ায় রক্তক্ষরণ হচ্ছে। অস্ত্রোপচারের প্রায় ২০ দিন পরও তাঁর স্ত্রীর রক্তক্ষরণ অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে চিকিৎসক মখলেছুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। করুণা ক্লিনিকের মালিক কিশোর কুমার দাশ অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ছাড়াই অস্ত্রোপচারকক্ষ (ওটি) ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এটি আমাদের ভুল হয়েছে।
তবে চিকিৎসক কীভাবে অস্ত্রোপচারের পর রোগীর জরায়ুর ভেতরে গর্ভফুলের অংশ রেখে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন, সে বিষয়ে আমি অবগত নই। এ বিষয়ে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। এমন ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩০ বছরের বেশি বয়সী এক নারীর সিজার সদ্য এমবিবিএস পাস করা চিকিৎসক করতে পারেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করতে প্রতিবেদককে তাঁর কার্যালয়ে যেতে বলেন। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা নথি, অস্ত্রোপচারের বিবরণ এবং নবজাতকের মৃত্যুর কারণ যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
দেশবার্তা/জেএ