হাওরের প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকা এবং উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে সুনামগঞ্জে এক মাঠে ৫২ জাতের ধানের প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) উদ্যোগে শান্তিগঞ্জ উপজেলার সদরপুর গ্রামে গড়ে ওঠা এই ‘রাইস গার্ডেন’ থেকে কৃষকরা নিজেদের জমির উপযোগী উন্নত জাত বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে চলতি আমন মৌসুমে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে এই প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে। এখানে উচ্চফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি, জিংকসমৃদ্ধ, সুগন্ধি এবং খরা, বন্যা ও জলমগ্নতা-সহনশীল বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। প্রতিটি গাছের পাশে নামফলক বা সাইনবোর্ড থাকায় কৃষকরা সরাসরি গাছ ও শীষের গঠন দেখে বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন।
প্রদর্শনীতে ব্রি ধান ১১২, ১১১, ১১০, ১০৯, ১০৩, ৯৫, ৯৪, ৯৩, ৯১, ৯০, ৮০, ৭৯, ৭৮, ৭৭, ৭৬, ৭৫, ৭৩, ৭২, ৭১, ৭০, ৬৬, ৬২, ৫৭, ৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪, ৫৬, ৪৯, ৪৬, ৪৪, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৩৭, ৩৪, ৩৩, ৩২, ৩০ ও ৩১; বিনা ধান ২৫, ২৩, ২২, ১১, ১০, ৫, ৪ ও ৩; এবং হাইব্রিড ধান ৪ ও ৬ স্থান পেয়েছে।
স্থানীয় কৃষক সাহেল বলেন, একসঙ্গে এত জাতের ধান জীবনে কখনও দেখিনি। অনেক ধানের নামও আগে শুনিনি। এখন চোখের সামনে এসব ধানের বেড়ে ওঠা দেখছি। এখান থেকে দেখে আমাদের জমির জন্য যেটা ভালো ও উচ্চফলনশীল হবে, সেটাই চাষের জন্য বেছে নেব।
ধানের জাত প্রদর্শনের পাশাপাশি রোগবালাই দমন, সুষম সার প্রয়োগ, বায়োকোটেড ইউরিয়া এবং সৌরবিদ্যুৎচালিত আলোকফাঁদের ব্যবহার নিয়ে কাজ করছে ব্রির সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়। এছাড়া কৃষিশ্রমিক সংকট মোকাবেলায় রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, উইডার ও কম্বাইন হারভেস্টারের ব্যবহার প্রদর্শন এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও বীজ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
ব্রি সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রেজওয়ান ভূঁইয়া বলেন, ৫২টি ধানের জাত নিয়ে স্থাপিত রাইস গার্ডেন থেকে কৃষকরা তাদের এলাকার উপযোগী জাত নির্বাচন করতে পারবেন। এছাড়া সার, আগাছা, রোগবালাই ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চলছে।
এই উদ্যোগ হাওরে ধানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দেশবার্তা/একে