এশিয়ার বাজারে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়লেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তার কাঙ্ক্ষিত প্রভাব পড়ছে না। উল্টো কাঁচামাল ও প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ায় পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য বাণিজ্যে আমদানির ব্যবধান আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। আলোচ্য অর্থবছরে আমদানি ব্যয় ১০.৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১১৪ কোটি ডলারে। বিপরীতে রপ্তানি আয় সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৮৫ কোটি ৬০ লাখ ডলারে। ফলে রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭২৯ কোটি ডলারে।
বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির সিংহভাগই এশীয় দুই পরাশক্তি চীন ও ভারতের সঙ্গে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, চীন থেকে ১ হাজার ৮৫৬ কোটি ডলারের আমদানির বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৬৯ কোটি ৪৪ লাখ ডলারের পণ্য, যেখানে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৮৬ কোটি ডলারে। একই সময়ে ভারতের সঙ্গে আমদানির পরিমাণ ছিল ৯৬২ কোটি ডলার এবং রপ্তানি ১৭৬ কোটি ডলার; ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৮৬ কোটি ডলার।
এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে প্রায় ৩৫৮ কোটি, সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ২৮০ কোটি এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে ২০১ কোটি ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান ও জাপানের সঙ্গেও ঘাটতি অব্যাহত রয়েছে।
চীন ও ভারত থেকে মূলত দেশের উৎপাদন ও রপ্তানিশিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, সুতা, তুলা, কাপড়, খাদ্যশস্য ও ইলেকট্রনিক পণ্য আমদানি করা হয়। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসব পণ্যের আমদানি হঠাৎ বন্ধ বা কমানো সম্ভব নয়; বরং স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জন জরুরি।
এদিকে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০.৬২ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য, ওষুধ ও প্রকৌশল পণ্যের মতো সম্ভাবনা থাকলেও রপ্তানি না বাড়ায় নির্দিষ্ট পণ্য ও গন্তব্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হয়েছে, যা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে এশীয় বাজারে সুযোগ থাকলেও পণ্যের বৈচিত্র্যের অভাব, উচ্চ শুল্ক, সরবরাহে দীর্ঘসূত্রতা এবং বাণিজ্যচুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে সেই সুবিধা নেওয়া যাচ্ছে না।
ঘাটতি সামাল দিতে চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্যের জন্য দেশভিত্তিক পৃথক কৌশল প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাজারের চাহিদা ও আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে দেশের শিল্পকে যুক্ত করার পাশাপাশি বৈচিত্র্যময় পণ্য রপ্তানির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।
দেশবার্তা/একে