আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন (৬.৩৫ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগের ব্যবস্থা করে দেবে জাপান। বৃহস্পতিবার জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এ তথ্য জানিয়েছে। চলতি মাসেই এক জাপান সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই সফরে তাকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।
দুই নেতার বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এই বিনিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করা হবে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
নিক্কেইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং বাংলাদেশে চীনের প্রভাব কমানো। চীন বর্তমানে বাংলাদেশের পণ্য আমদানির সবচেয়ে বড় উৎস।
নিক্কেইয়ের খবরে বলা হয়েছে, জাপানের এ বিনিয়োগ মূলত অটোমোবাইল ও অন্যান্য উৎপাদনমুখী শিল্পের পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাপানি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো করপোরেশনসহ বিভিন্ন পক্ষের উদ্যোগে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (বিএসইজেড) যেসব কোম্পানি কার্যক্রম শুরু করছে, তারাও এই বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবে।
জাপানি কোম্পানিগুলোর একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবে। পাশাপাশি অর্থনীতি ও বিনিয়োগ নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে একটি সংলাপ আয়োজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই করেছে জাপান। তুলনামূলক সাশ্রয়ী শ্রম ও শিল্পোৎপাদনের জন্য অনুকূল পরিবেশের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠীর কারণে বাংলাদেশ ভোক্তা বাজার হিসেবেও বেশ বড়।
জাপান দীর্ঘদিন ধরেই অফিশিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্সের (ওডিএ) মাধ্যমে বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়ে আসছে। এবার উন্নয়ন সহায়তার পাশাপাশি এদেশে সক্রিয়ভাবে বিনিয়োগের ব্যাপারেও আগ্রহের জানান দিতে যাচ্ছে জাপান। তাকাইচি সানায়ের আমন্ত্রণে ২৬ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন তারেক রহমান। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হবে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাংলাদেশ ও জাপান সরকার যৌথভাবে এ সফরের ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের অর্থায়নে নির্মাণাধীন মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করতে একটি 'শিল্প ভ্যালু চেইন' গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে টোকিও। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরে এ বন্দর বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে।
জাপানি কূটনীতিকদের বরাতে দ্য হিন্দু বলেছে, মাতারবাড়ী বন্দর এমন একটি শিল্প ভ্যালু চেইনের অংশ হবে, যা বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করবে। মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ (এমএমআইডিআই) এই আলোচ্যসূচিতে স্থান পাবে। এ সফরে জাপানের কাছে ২.২ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ১৪ বিলিয়ন ডলারের কৌশলগত বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্যাকেজের প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ।
এমএমআইডিআই ও মাতারবাড়ী হাবের জন্য ৫০০ বিলিয়ন ইয়েন (৩.১৪ বিলিয়ন ডলার) অর্থায়নের প্রস্তাব করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এই অর্থায়নের আওতায় গভীর সমুদ্রবন্দর ও লজিস্টিকস, সড়ক ও রেল যোগাযোগ, শিল্প অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নে বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশবার্তা/জেএ