ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে প্রচন্ড চাপ, দুশ্চিন্তায় শ্রমিকরা

দেশবার্তা প্রতিবেদক

অর্থ-বাণিজ্য

ইউরোপের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি নিয়ে নতুন করে চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। ক্রেতাদের কাছ থেকে কম ক্রয়াদেশ পাওয়া, পোশাকের

2026-10-24T12:07:53+06:00
2026-10-24T12:07:53+06:00
শনিবার ● ২৪ অক্টোবর ২০২৬,
৮ কার্তিক ১৪৩৩
 ইপেপার   আর্কাইভ   ভিডিও 
চলমান বার্তা:
অর্থ-বাণিজ্য
ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে প্রচন্ড চাপ, দুশ্চিন্তায় শ্রমিকরা
দেশবার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৭ পিএম 
⏲
সংগৃহীত ছবি
ইউরোপের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি নিয়ে নতুন করে চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। ক্রেতাদের কাছ থেকে কম ক্রয়াদেশ পাওয়া, পোশাকের বিক্রয়মূল্য কমে যাওয়া এবং ফ্রান্সের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা—এই তিন কারণে রপ্তানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এর প্রভাব শুধু রপ্তানি আয় ও কারখানার মুনাফায় সীমাবদ্ধ নেই; অনেক শ্রমিকের বাড়তি আয়ও কমে যাচ্ছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩.৩৩ শতাংশ বেড়েছে। তবে সব দেশে একই চিত্র দেখা যায়নি। এ সময়ে ফ্রান্সে রপ্তানি কমেছে ৪.৯১ শতাংশ। অন্যদিকে স্পেনে রপ্তানি বেড়েছে ১৩.৭৩ শতাংশ।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ইউরোপের বাজারে পোশাক বিক্রির পরিমাণ ও গড় দাম—দুটিই কমার তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থার উপাত্ত অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি থেকে আয় কমেছে ১১.৬৭ শতাংশ। একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ৪.৫৮ শতাংশ। প্রতি কেজি পোশাকের গড় রপ্তানিমূল্য ১৪.৮৭ ইউরো থেকে নেমে এসেছে ১৩.৭৬ ইউরোতে।

অর্থাৎ কম পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি আগের তুলনায় কম দামে পোশাক বিক্রির চাপও সামলাতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এতে উৎপাদন খরচ মেটানো এবং মুনাফা ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

অর্ডার কমায় ওভারটাইম হারাচ্ছেন শ্রমিকরা এটা একটা বিড়ম্বনা
রপ্তানি বাজারের এই চাপের প্রভাব সবচেয়ে সরাসরি পড়ছে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের জীবনে। গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানার সেলাই অপারেটর রহিমা খাতুনের অভিজ্ঞতায় বিষয়টি স্পষ্ট। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত কাজ করে বাড়তি আয় করার সুযোগ থাকলেও এখন অনেক দিন বিকেল ৫টার মধ্যেই কারখানার কাজ শেষ হয়ে যাচ্ছে।

কারখানায় অতিরিক্ত কাজের সময় কমে যাওয়ায় তাঁর মতো শ্রমিকদের মাসিক আয়েও টান পড়ছে। আগে ওভারটাইমের টাকা দিয়ে সংসারের খরচ সামলাতে কিছুটা স্বস্তি মিলত। এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা এবং পরিবারের অন্যান্য ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে কাজ হারানোর আশঙ্কাও বাড়ছে।

শ্রমিকদের জন্য ওভারটাইম শুধু অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা নয়, অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের আয় বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়। তাই অর্ডার কমে গেলে উৎপাদনের সময় কমার পাশাপাশি তাঁদের হাতে আসা টাকাও কমে যায়। দীর্ঘদিন এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়তে পারে।

তবে ফ্রান্সে রপ্তানি কমলেও স্পেনে বেড়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ফ্রান্সে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ৪.৯১ শতাংশ কমে ৪৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে স্পেনে রপ্তানি ১৩.৭৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১১৪ কোটি ৮৪ লাখ ডলার।

এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, ইউরোপের সব বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা একইভাবে কমছে না। কোনো দেশে রপ্তানি বাড়ছে, আবার কোনো দেশে কমছে। তবে জানুয়ারি-আগস্ট সময়ের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামগ্রিক আয় ও রপ্তানির পরিমাণের হিসাব বাজারের ওপর চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ওই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট পোশাক আমদানিতে বাংলাদেশের অংশ ২১.৫ শতাংশ থেকে কমে ১৯.৮ শতাংশ হয়েছে। বাজারের অংশ কমে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ধরে রাখার বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

সামনে বাংলাদেশের পোশাক খাতের চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে। ফ্রান্সের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দেশটির বাজারে সাময়িক অনিশ্চয়তা কমতে পারে। কিন্তু ইউরোপে পোশাকের চাহিদা দুর্বল থাকা এবং বিক্রয়মূল্যের ওপর চাপ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের চ্যালেঞ্জ থেকেই যাবে।

ইউরোপ বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার। সেখানে বাজারের অংশ ধরে রাখা, ভালো দাম নিশ্চিত করা এবং ক্রেতাদের আস্থা বজায় রাখতে হলে শুধু বেশি পরিমাণে পোশাক উৎপাদন করলেই হবে না; পণ্যের মান, নকশা, উৎপাদনশীলতা ও সরবরাহের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।

সব মিলিয়ে, ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির বর্তমান পরিস্থিতি শিল্পটির জন্য সতর্কবার্তা। ক্রয়াদেশ কমা, গড় দাম কমে যাওয়া এবং শ্রমিকদের ওভারটাইম হ্রাস—এই চাপগুলো দীর্ঘস্থায়ী হলে রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থান উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বাজারের বৈচিত্র্য বাড়ানো, উচ্চমূল্যের পণ্যে এগিয়ে যাওয়া এবং শ্রমিকদের জীবিকা সুরক্ষিত রাখার সমন্বিত উদ্যোগই এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

দেশবার্তা/জেএ


সর্বশেষ সংবাদ 

প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিবের স্টাফ পরিচয়ে প্রতারণা, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
ফ্রান্সজুড়ে আবারও বিক্ষোভের প্রস্তুতি
মেসিকে সর্বকালের সবচেয়ে সফল ফুটবলারের স্বীকৃতি দিল স্পেন
স্বামীর ভালোবাসার আলিঙ্গনে পাঁজরের ৫ হাড় ভেঙে গেছে স্ত্রীর
এখন আন্দোলনের কাজ নেই, দেশ গড়ার সময়: খাদ্যমন্ত্রী

সর্বাধিক পঠিত 

বরুড়া পৌরসভায় পাগলা কুকুরের আতঙ্ক, আহত ২৫ জন
আহম্মদ গ্রুপের অত্যাচার থেকে বাচতে কৃষক ইব্রাহীমের সংবাদ সম্মেলন
সাজেকে গোলাগুলি, আটকা পড়েছে কয়েক হাজার পর্যটক
সাজেকে পর্যটকসহ গুলিবিদ্ধ ৭ জনকে সেনাবাহিনীর উদ্ধার
বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ৩.৭৭ বিলিয়ন ডলার সরকারের প্রত্যাশা
অর্থ-বাণিজ্য- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]
Advertisement