টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালিয়ানের ঐতিহ্যবাহী টিলা কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। উপজেলার কালিয়ান ইটভাটার দক্ষিণ পাশে মাদ্রাসাচালা এলাকায় টিলা কেটে এসব মাটি সখীপুর ও কালিহাতী উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটা এবং বসতবাড়ি ভরাটের কাজে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে ধীরে ধীরে টিলার প্রাকৃতিক ভূপ্রকৃতি বদলে সমতল ভূমিতে পরিণত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একটি চক্র দিনের বেলায় ব্যবহৃত ভেকু (খননযন্ত্র) আশপাশের জঙ্গলে লুকিয়ে রাখে। পরে রাতের আঁধারে টিলা কেটে মাটি উত্তোলন করা হয়। এরপর ট্রাক ও মাটিবাহী যানবাহনে করে এসব মাটি বিভিন্ন গন্তব্যে নিয়ে বিক্রি করা হয়। রাতে কালিহাতী উপজেলার গান্ধিনা, রতনগঞ্জ ও বেহালাবাড়ি সড়ক দিয়ে এসব মাটি পরিবহন করা হচ্ছে। সখীপুর থেকে কালিহাতীসহ বিভিন্ন এলাকার ইটভাটা ও বসতবাড়িতে মাটি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
দিনের পর দিন মাটি কাটার ফলে কালিয়ানের টিলার স্বাভাবিক গঠন ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। এভাবে নির্বিচারে টিলা কাটা অব্যাহত থাকলে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি টিলার স্বাভাবিক ঢাল ও ভূমির গঠন নষ্ট হলে বৃষ্টির পানি প্রবাহ, মাটির ক্ষয় এবং আশপাশের পরিবেশে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কালিয়ানের টিলা এলাকার প্রাকৃতিক ভূপ্রকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একসময় উঁচু-নিচু টিলায় ঘেরা এই এলাকার চেহারা এখন বদলে যাচ্ছে। মাটি কাটার কারণে টিলার বিভিন্ন অংশ নিচু হয়ে পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় টিলার অস্তিত্ব ও স্বাভাবিক সৌন্দর্য হারিয়ে যেতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে নিয়মিত মাটি কাটা ও পরিবহন করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নেই। কারা এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে মাটি উত্তোলন ও বিক্রি চলছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। কালিয়ানের ঐতিহ্যবাহী টিলা রক্ষায় দ্রুত তদন্ত, অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধ এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে রাতে মাটি পরিবহনের বিষয়টি নজরদারির আওতায় আনা এবং টিলার বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, একটি প্রভাবশালী চক্র রাতের আঁধারে অবৈধভাবে টিলার লাল মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের চোখের সামনেই টিলা থেকে মাটি কেটে গাড়ি ভর্তি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে প্রভাবশালী চক্রটির বিরুদ্ধে স্থানীয় কেউ মুখ খোলার সাহস পান না বলে তাঁদের অভিযোগ। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে কালিয়ানের ঐতিহ্যবাহী টিলা ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যেতে পারে। তাই প্রাকৃতিক পরিবেশ ও এলাকার ভূপ্রকৃতি রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার জানান, যেহেতু টিলা কাটা হচ্ছে সখীপুর উপজেলায়, তাই বিষয়টি তাঁর আওতাবহির্ভূত। তবে তাঁর উপজেলায় যদি মাটি সরবরাহ করা হয়ে থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/আরএইচ