প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন। বছরজুড়েই এই বন দেখতে পর্যটকদের আগমন ঘটে। তবে দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে কয়েক গুণ। পর্যটকদের বাড়তি চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা। পর্যটক বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে সরকারি রাজস্বও।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সুন্দরবন। গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) পর্যন্ত পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা, কচিখালী ও জামতলা সি বিচসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে গেছেন হাজারো পর্যটক।
শরণখোলা রেঞ্জের আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান ইমরান বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে পাঁচ দিনের ছুটিতে সুন্দরবনে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। বুধবার, বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার—এই চার দিনে ৫৭টি পর্যটকবাহী জাহাজে করে ২ হাজার ৭৭৬ জন বিভিন্ন বয়সী পর্যটক কটকা, কচিখালীসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে গেছেন। সাগরতীরবর্তী কটকার মনোরম দৃশ্য, চিত্রা হরিণের পাল, বানর, বন্য শূকরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর ছোটাছুটি দেখে আনন্দ-উল্লাস করেছেন পর্যটকেরা।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের (টোয়াস) সাধারণ সম্পাদক শাহজামান খান পপুল বলেন, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার বেশি পর্যটক সুন্দরবন ঘুরতে আসছেন। দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। এ ছুটিকে কেন্দ্র করে ৬০টি জাহাজে পর্যটকেরা আগাম বুকিং দিয়েছিলেন। এসব জাহাজের পর্যটকেরা সুন্দর পরিবেশে সুন্দরবন ঘুরে ফিরে এসেছেন।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সুন্দরবন এখন নতুন সাজে সজ্জিত হয়েছে। বাঘ, হরিণসহ বন্যপ্রাণীর সংখ্যা বেড়েছে। পর্যটকদের আনাগোনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। নৌযানে যাতায়াতের সময় কখনো কখনো খাল বা নদী সাঁতরে বাঘ পার হতে দেখা যায়। দুর্গাপূজার ছুটিতে বিপুলসংখ্যক পর্যটক সুন্দরবন ঘুরে গেছেন।
প্রতিনিধি/আরএইচ