দীর্ঘ ২৪ বছর পর আবারও আফ্রিকার মাটিতে ফিরছে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর ওয়ানডে বিশ্বকাপ। আগামী ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টের ১২টি ভেন্যুর নাম ঘোষণা করেছে। জোহানেসবার্গে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে ভেন্যুগুলোর নাম উন্মোচন করা হয়। এর আগে সর্বশেষ ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়া যৌথভাবে এই বিশ্বমঞ্চ আয়োজন করেছিল।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের বেশির ভাগ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। দেশটির আটটি দৃষ্টিনন্দন স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হবে বিশ্বকাপের মূল লড়াই। জিম্বাবুয়ে তাদের আয়োজক ভূমিকা রাখবে তিনটি ভেন্যুতে, আর আফ্রিকার আরেক উদীয়মান ক্রিকেট দেশ নামিবিয়ার রাজধানী উইন্ডহুকে হবে একটি ভেন্যুর খেলা।
বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো যে ১২টি মাঠে গড়াবে
দক্ষিণ আফ্রিকা (৮টি ভেন্যু): ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়াম (জোহানেসবার্গ), সেঞ্চুরিয়ন পার্ক (শোয়ানে), নিউল্যান্ডস (কেপ টাউন), কিংসমিড (ডারবান), সেন্ট জর্জস পার্ক (গকেবেরহা), মানগাউং ওভাল (ব্লুমফন্টেইন), বোল্যান্ড পার্ক (পার্ল) ও বাফেলো পার্ক (ইস্ট লন্ডন)।
জিম্বাবুয়ে (৩টি ভেন্যু): হারারে স্পোর্টস ক্লাব (হারারে), কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব (বুলাওয়ে) এবং ফালে মোসি-ওয়া-টুনিয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম (ভিক্টোরিয়া ফলস)।
নামিবিয়া (১টি ভেন্যু): নামিবিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ড (উইন্ডহুক)।
জোহানেসবার্গে আয়োজিত এই ভেন্যু উন্মোচন অনুষ্ঠানে আফ্রিকার ক্রিকেট ইতিহাসের একাধিক রথী-মহারথী উপস্থিত ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ও বর্তমান তারকাদের মধ্যে ছিলেন গ্রায়েম স্মিথ, মাখায়া এনটিনি, হাশিম আমলা, টেম্বা বাভুমা ও কাগিসো রাবাদা। এ ছাড়া জিম্বাবুয়ের হ্যামিল্টন মাসাকাদজা এবং নামিবিয়ার রুডলফ জানসেন ভ্যান ভুরেনও এ বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ বলেন, ‘২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপের প্রত্যাবর্তন বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমার বিশ্বাস, এই তিন দেশ মিলে এমন একটি বিশ্বমানের টুর্নামেন্ট উপহার দেবে, যা ভক্তদের হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং আফ্রিকান ক্রিকেটের আবেগ ও বৈচিত্র্যকে বিশ্বমঞ্চে অনন্যভাবে তুলে ধরবে।’
২০২৭ বিশ্বকাপে মোট ৫৭টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। তবে এবার খেলা সম্প্রচারের পাশাপাশি টুর্নামেন্টের মূল কাঠামোতেও বেশ কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। থাকছে তিন ধাপের নতুন প্রতিযোগিতা রূপরেখা- প্রথম ধাপে র্যাঙ্কিংয়ের ১২ থেকে ১৪ নম্বরে থাকা তিনটি দল রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে মুখোমুখি হবে। সেই পর্বের শীর্ষ বিজয়ী দল মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাবে।
দ্বিতীয় ধাপে ১২টি দলকে নিয়ে ৩০ ম্যাচের মূল গ্রুপ পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এখানে দলগুলোকে ছয়টি করে দুটি গ্রুপে ভাগ করে রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে খেলা হবে।
সবশেষে দুই গ্রুপের শীর্ষ তিনটি করে মোট ছয়টি দল এবং পয়েন্ট টেবিলে পরবর্তী সেরা একটি দল- সব মিলিয়ে সাতটি দল নিয়ে শুরু হবে ‘সুপার সেভেন’ পর্ব। এখানে অনুষ্ঠিত ২১টি ম্যাচ শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চার দল সেমিফাইনালে উঠবে। প্রথম সেমিফাইনালে টেবিলের প্রথম দল লড়বে চতুর্থ দলের সঙ্গে, আর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দল। দুই সেমিফাইনালের জয়ী দল নিয়েই আয়োজিত হবে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল।
দেশবার্তা/একে