মরক্কো থেকে সাঁতরে এবং সীমান্ত প্রাচীর টপকে মাত্র এক দিনে স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত ভূখণ্ড সেউতায় প্রবেশ করেছেন অন্তত ৫০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। এদিকে এই ঝুঁকি নিয়ে সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ১৮ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
মরক্কোর সীমান্ত সংলগ্ন সেউতা ভৌগোলিকভাবে মূল ভূখণ্ড স্পেন থেকে বিচ্ছিন্ন এবং জিব্রাল্টার প্রণালীর অপর প্রান্তে অবস্থিত হলেও ঐতিহাসিকভাবে এটি স্পেনেরই অংশ। ফলে সেউতায় পা রাখার মাধ্যমেই অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ভূখণ্ডে প্রবেশের সুযোগ পান। মূলত ইউরোপে উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের বাসিন্দারা এই পথকে বেছে নিচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার হাজার হাজার মানুষ উত্তাল সাগরে সাঁতরে সেউতার উপকূলে পৌঁছাচ্ছেন। একই সময়ে অনেককে উঁচু সীমান্ত বেড়া টপকে ভূখণ্ডটিতে ঢুকতে দেখা যায়। হঠাৎ মানুষের এমন ঢল নামায় স্থানীয় নিরাপত্তাবাহিনী তা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দিন পার হয়ে রাতের বেলাতেও সীমান্ত দিয়ে মানুষের অনুপ্রবেশ অব্যাহত ছিল।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ রায় দেন। রায়ে বলা হয়, সাগরপথে সেউতা বা মেলিলাতে প্রবেশের চেষ্টা করা মানুষদের আটক করে তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না। আদালতের এই রায়ের পরপরই সেউতামুখী অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঢল নামতে শুরু করে, যা গতকাল এক দিনে প্রায় ৫০ হাজারে গিয়ে ঠেকে।
মাত্র ৮৪ হাজার জনসংখ্যার এই ছোট্ট শহরে এক দিনে এত মানুষের আগমনে দেখা দিয়েছে তীব্র মানবিক ও প্রশাসনিক সংকট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেউতার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জরুরি সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। সংকট সামাল দিতে ইতোমধ্যেই এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
দেশবার্তা/একে