পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের দুটি পৃথক কয়লাখনিতে বিস্ফোরণ ও ধসের ঘটনায় ৩৫ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় এখনো অন্তত ৮ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মর্মান্তিক এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও দায়িত্বশীল কর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটার অদূরে সোরাঞ্জ নামের এক দুর্গম এলাকায় অবস্থিত খনিতে ভয়াবহ মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণে অন্তত ৩৪ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
খনির মালিক কুরবান জোগেজাই জানান, ভূগর্ভে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস জমা হওয়ার কারণেই এই শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। দুর্ঘটনার সময় খনির ভেতরে মোট ৪২ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ-কে কুরবান জোগেজাই বলেন, হতাহত হওয়া শ্রমিকদের সবাই মূলত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়ার শাংলা জেলার বাসিন্দা।
বিস্ফোরণের পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত খনিতে যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু করে বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের (পিডিএমএ) উদ্ধারকারী দল।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) উদ্ধারকারী দলের এক সদস্য জানান, নিখোঁজ বাকি শ্রমিকদের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত খনির ভেতরে উদ্ধার অভিযান নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।
একই দিনে বেলুচিস্তানের হারনাই জেলার আরেকটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ পাথরধসের ঘটনা ঘটে। এতে চাপা পড়ে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ।
একই দিনে মর্মান্তিক এই জোড়া দুর্ঘটনার পর বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও সিন্ধ প্রদেশের কয়লাখনিগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও আধুনিক সরঞ্জামের ঘাটতি থাকায় প্রায়ই এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
এর আগে চলতি জুলাই মাসের শুরুর দিকে সিন্ধের থাট্টা জেলায় আরেকটি কয়লাখনি ধসে ৪ জন শ্রমিক নিহত ও ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছিলেন।
দেশবার্তা/একে