গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশকে সঙ্গে নিয়ে নতুন একটি সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামের এই জোটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
জোটভুক্ত দেশগুলো জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডর দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে তারা একসঙ্গে কাজ করবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি ঘিরে যখন বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই এই জোটের ঘোষণা এলো। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ যে পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো, সেখানে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইতোমধ্যে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধাদের ধারাবাহিক হামলার কারণে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরীয় রুটও বারবার ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সৌদি আরব জানায়, নতুন এই জোট গঠন উপলক্ষে আয়োজিত বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি অংশ নেন। বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি বিশেষ প্রতিনিধিদলও উপস্থিত ছিল। উল্লেখ্য, লোহিত সাগরে ইইউর আগে থেকেই ‘অ্যাসপিডিস’ নামে একটি নৌ নিরাপত্তা মিশন চালু রয়েছে। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন নতুন জোটটির সঙ্গে তাদের সমন্বয় বা পার্থক্য কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।
সৌদি আরবসহ এই নতুন জোটে মোট ১৪টি দেশ স্বাক্ষর করেছে। দেশগুলো হলো- সৌদি আরব, বাংলাদেশ, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও কোমোরোস। তবে ওই অঞ্চলে একই ধরনের নিরাপত্তা স্বার্থ থাকা সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ওমান এই জোটে যোগ দেয়নি।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের জন্যও এই জোটে যোগ দেওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, সদস্য দেশগুলো মনে করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষা করা একটি যৌথ দায়িত্ব। তাই আন্তর্জাতিক ও আন্তঃসীমান্ত সামুদ্রিক হুমকি মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ই সবচেয়ে কার্যকর পথ।
জোটের আওতায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ সামরিক পরিকল্পনা, নিয়মিত মহড়া এবং সমন্বিত সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনা করা হবে। তবে কোন দেশ কী পরিমাণ যুদ্ধজাহাজ, বিমান বা সামরিক সরঞ্জাম পাঠাবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, এই জোটের গঠন সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে গড়ে তোলা হয়নি। সূত্র: আল-জাজিরা
দেশবার্তা/একে