দেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক, ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সাহসী কণ্ঠ, একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রবীণ সম্পাদক আব্দুস সালামের ১১৬তম জন্মবার্ষিকী রোববার (২ আগস্ট) যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।
১৯১০ সালের এই দিনে ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার দক্ষিণ ধর্মপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সাংবাদিকতায় তাঁর সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ইংরেজি দৈনিক ‘পাকিস্তান অবজারভার’-এর সম্পাদক হিসেবে দেশজুড়ে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। পরবর্তীতে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পত্রিকাটি ‘বাংলাদেশ অবজারভার’ নামে প্রকাশিত হতে থাকে। গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারের পক্ষে তাঁর আপসহীন ও সাহসী ভূমিকা দেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে।
সাংবাদিক আব্দুস সালাম প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠালগ্নে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এবং পরবর্তীতে প্রেস ক্লাবের সভাপতির দায়িত্বও সামলান।
তাঁর ১১৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক সংগঠন দিনব্যাপী স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, পুষ্পস্তবক অর্পণসহ নানা কর্মসূচি পালন করে।
সকালে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে মরহুমের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান পরিবারের সদস্য ও অনুরাগীগণ। সেখানে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
এছাড়া ধানমন্ডিতে অবস্থিত তাঁর বাসভবনে এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়, যেখানে সাংবাদিক, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন।
স্মরণসভায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, আব্দুস সালামের জীবন ও কর্ম ছিল বস্তুনিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার এক নিখুঁত দৃষ্টান্ত। নীতি-নৈতিকতা রক্ষা ও গণমানুষের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিতের সংগ্রামে তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ আজও এ দেশের সংবাদকর্মীদের পথ দেখায়।
নতুন প্রজন্মের সাংবাদিক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে আব্দুস সালামের জীবনের আদর্শ ও সাংবাদিকতার মূল দর্শন ব্যাপকভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান বক্তারা। একই সাথে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও সংবাদপত্রের বিকাশে তাঁর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়।
দেশবার্তা/একে