পিরোজপুরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে মাসব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মসূচি, মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি নাগরিকদেরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করেন পিরোজপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। ডেঙ্গু পরিস্থিতি, জেলা পরিষদের উদ্যোগ ও করণীয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি হাসান মামুন।
প্রশ্ন: পিরোজপুরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ?
অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন : ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে মাসব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে ছয়টি ফগার মেশিন কেনা হয়েছে। জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে কর্মকর্তাকে কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা স্কুল-কলেজ, হাট-বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করবেন। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে।
প্রশ্ন: জেলার বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এখন সবচেয়ে জরুরি কী ?
অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন : আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনার পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি। বিশেষ করে যেসব স্থানে পানি জমে থাকে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ কাজে স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।
প্রশ্ন: তিনটি পৌরসভাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কীভাবে জোরদার করা হবে ?
অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন : ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কোনো একটি প্রতিষ্ঠান একা কার্যকর ফল আনতে পারবে না। পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় করে মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিতভাবে মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস করার উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রশ্ন: সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিয়ে যৌথ টাস্কফোর্স বা কন্ট্রোল রুম গঠনের কোনো পরিকল্পনা আছে কি ?
অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন : ডেঙ্গু মোকাবিলায় সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলা পরিষদ, পৌরসভা, স্বাস্থ্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী টাস্কফোর্স বা কন্ট্রোল রুম গঠনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
প্রশ্ন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ?
অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন : সাধারণ মানুষের সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কঠিন। বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের আশপাশে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি।
প্রশ্ন: শুধু মশা নিধন নয়, পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বাড়াতে কী করা হবে ?
অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন : মশা নিধনের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হবে। এ কাজে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠন ও গণমাধ্যমকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।
প্রশ্ন: দীর্ঘমেয়াদে পিরোজপুরকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি ?
অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন : ডেঙ্গু প্রতিরোধকে শুধু মৌসুমি কার্যক্রম হিসেবে দেখলে হবে না। সারা বছর পরিচ্ছন্নতা, মশার প্রজননস্থল চিহ্নিতকরণ ও জনসচেতনতা কার্যক্রম চালু রাখা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রশ্ন: জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডেঙ্গু পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?
অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন : ডেঙ্গু রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে পরীক্ষা, চিকিৎসা ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। রোগীর চাপ বাড়লে যাতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হবে।
প্রশ্ন: ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় পিরোজপুরবাসীর প্রতি আপনার আহ্বান কী ?
অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন : ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে শুধু সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব।
দেশবার্তা/জেএ