এক পাশে আন্তর্জাতিক রুটের দ্রুতগতির ভারী যানবাহন, অন্য পাশে পিচঢালা মহাসড়কের ওপরই বসেছে কৃষিপণ্য ও কাঁচাবাজারের হাট। পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা জাতীয় মহাসড়কের জগদল বাজারে সপ্তাহে দুই দিন নিয়ম করে বসছে এই হাট। এতে স্থানীয় অর্থনীতির চাকা সচল থাকলেও ঝুঁকিতে পড়ছে মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও সাধারণ মানুষ।
জানা গেছে, প্রতি শনি ও বুধবার জগদল বাজারের চিত্র বদলে যায়। নির্দিষ্ট শেড বা পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে শত শত কৃষক ও পাইকার মহাসড়কের পিচঢালা অংশের ওপর পসরা সাজিয়ে বসেন। ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়, ভ্যান-ইজিবাইকের পার্কিং এবং মাঝ দিয়ে দ্রুতগতিতে চলা দূরপাল্লার যানবাহন—সব মিলিয়ে সৃষ্টি হয় চরম বিশৃঙ্খলা।
আন্তর্জাতিক রুটের এই মহাসড়কে দ্রুতগতিতে চলাচল করা ভারী যানবাহন হাটের ভিড়ে এসে গতি কমাতে বাধ্য হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় অর্থনীতিতে জগদল হাটের গুরুত্ব থাকলেও সেই হাটই এখন সাধারণ যাত্রী, নারী ও স্কুলগামী শিশুদের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জায়গা সংকটের কারণে বছরের পর বছর ধরে মহাসড়ক দখল করে হাট বসানো হলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বলেন, “আমরাও তো রাস্তায় বসতে চাই না। কিন্তু হাটের ভেতরে জায়গা নেই, কাদা থাকে। পেটের তাগিদে বাধ্য হয়েই সড়কের ওপর বসি।”
পথচারী রবিউল ইসলাম ও আনোয়ারুল হক বলেন, মহাসড়কের ওপর হাট-বাজার না বসিয়ে নির্ধারিত জায়গায় হাট বসানো হলে সাধারণ পথচারী ও স্কুলশিক্ষার্থীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হবে না। একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফাহিম আকতার বলেন, “সড়কের ওপর হাট বসায় আমাদের চলাচলে খুব অসুবিধা হয়। আমরা চাই, নিরাপদ সড়কের স্বার্থে সড়কের ওপর থেকে হাটটি সরিয়ে হাটের নির্ধারিত জায়গায় বসানো হোক।”
স্থানীয় জগদল দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও একই দাবি জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, সপ্তাহে দুই দিন হাট বসায় স্কুল ছুটির পর মহাসড়ক দিয়ে চলাচলে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। নিরাপদ সড়কের স্বার্থে মহাসড়ক থেকে পণ্য বেচাকেনার হাট অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) পঞ্চগড়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মোতাহার আলী বলেন, জাতীয় মহাসড়ক ঝুঁকিমুক্ত রাখতে একাধিকবার মাইকিং করা হয়েছে। এরপরও তা মানা হচ্ছে না। নিরাপদ সড়কের স্বার্থে স্থানীয় সচেতন মহল ও ব্যবসায়ীদের এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অর্থনীতির প্রয়োজনে হাট যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মানুষের জীবনের নিরাপত্তার জন্য মহাসড়ক ঝুঁকিমুক্ত রাখাও জরুরি। বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটার আগেই জগদল হাটের জন্য একটি স্থায়ী ও নিরাপদ জায়গা নির্ধারণে কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেবে।
প্রতিনিধি/আরএইচ