শেরপুরে ‘আওয়ার শেরপুর’ নামে প্রযুক্তিনির্ভর একটি অ্যাপ উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অনলাইনে বাসের টিকিট বুকিং, যানবাহন রিজার্ভ, স্থানীয় পণ্য, পর্যটন ও জরুরি তথ্যসহ বিভিন্ন সেবা পাওয়া যাবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অ্যাপটির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্চিতা বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাইফুল ইসলাম কমল, শেরপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাকন রেজা, কার্যকরী সভাপতি রফিক মজিদ, শেরপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আলহাজ্ব আরিফ হোসেনসহ বিভিন্ন পরিবহনের মালিক, অ্যাপের মাধ্যমে উপকারভোগী শিক্ষার্থী, সুধীজন ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ‘আওয়ার শেরপুর’-এর উদ্যোক্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, অ্যাপটির মাধ্যমে অনলাইনে বাসের টিকিট বুকিং, রিজার্ভ সার্ভিস, স্থানীয় ব্র্যান্ডিং পণ্যের তথ্য, পর্যটন ও জরুরি তথ্য পাওয়া যাবে।
২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করা ‘আওয়ার শেরপুর’ প্রযুক্তির মাধ্যমে শেরপুরের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত, স্থানীয় পণ্য, পর্যটন, স্থানীয় সেবা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে ১৯টি বাস। শেরপুর থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুয়াকাটা ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটের বাসের টিকিট অনলাইনে বুক করা যায়। বর্তমানে নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫ হাজার ৯০ জন।
অ্যাপের মাধ্যমে কাউন্টারে না গিয়েই যেকোনো সময় টিকিট বুক করার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি পছন্দের আসন নির্বাচন, বাসের তথ্য জানা এবং লাইভ ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাসের অবস্থান জানার সুবিধাও রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, পিকআপ ও ট্রাক রিজার্ভ করার সুবিধা রাখা হয়েছে।
অ্যাপটির অন্যতম উদ্যোগ ‘শেরপুর থেকে ক্যাম্পাস’। এর মাধ্যমে শেরপুর থেকে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়। পরীক্ষার্থীদের নতুন ক্যাম্পাসের প্রয়োজনীয় স্থান চিনিয়ে দেওয়া এবং পুরো যাত্রাপথে সহযোগিতার উদ্যোগও রয়েছে।
এ ছাড়া শেরপুরের স্থানীয় ও ঐতিহ্যবাহী পণ্য অনলাইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি জেলার বাইরে থেকে শেরপুরে অর্থনৈতিক প্রবাহ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।
ভবিষ্যতে ‘আওয়ার শেরপুর’-এ চিকিৎসাসহ আরও বিভিন্ন সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসকের সিরিয়াল বুকিং, হাসপাতালে ভর্তি এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সেবা যুক্ত করার উদ্যোগ রয়েছে।
প্রযুক্তির মাধ্যমে শেরপুরের মানুষের যাতায়াত, স্থানীয় পণ্য, পর্যটন ও বিভিন্ন সেবাকে একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার পাশাপাশি জেলা ব্র্যান্ডিং, স্থানীয় উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান ও জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখাই ‘আওয়ার শেরপুর’-এর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।
প্রতিনিধি/আরএইচ