খাট থেকে পড়ে মাথায় আঘাত পাওয়ার পর খিঁচুনিতে আক্রান্ত ১৩ মাস বয়সী ছেলেকে জরুরি চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলায় চিকিৎসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শিশুটির বাবা। কৃতজ্ঞতার নিদর্শন হিসেবে পরিবারের পক্ষ থেকে ওই চিকিৎসককে একটি গোল্ড মেডেল উপহার দিয়েছেন তিনি।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর মানিকগঞ্জের মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. জয়ন্ত সাহার সঙ্গে দেখা করেন শিশুটির বাবা মাহমুদ হাসান। তিনি মানিকগঞ্জের জাগীর ইউনিয়নের দেরগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে আবারও হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের হাতে পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা হিসেবে গোল্ড মেডেল তুলে দেন তিনি।
মাহমুদ হাসান বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে খাট থেকে পড়ে যায় তাঁর ১৩ মাস বয়সী সন্তান। এরপর শিশুটির বমি ও খিঁচুনি শুরু হয়। বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে শিশুটিকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে বলা হয়।
পরে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে শিশুটিকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকেও শিশুটিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
মাহমুদ হাসান জানান, তখন শিশুটির অবস্থা দ্রুত খারাপ হচ্ছিল। মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল এবং প্রচণ্ড খিঁচুনি হচ্ছিল। এ অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার ঝুঁকি না নিয়ে তিনি শিশুটিকে মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. জয়ন্ত সাহা শিশুটির ওজন নির্ণয় করে খিঁচুনি কমানোর ওষুধ দেন। মাহমুদ হাসানের দাবি, এর প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে ঢাকায় নেওয়ার পথে শিশুটির অবস্থার উন্নতি হয়।
মাহমুদ হাসান বলেন, ‘মুনতাসীর আমার একমাত্র সন্তান। বিয়ের আট বছর পর এই সন্তানের জন্ম হয়েছে। মাত্র ১৩ মাস বয়স। চিকিৎসার মাধ্যমে তাকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেয়েছি। এ ঋণ শোধ হওয়ার নয়। তাই চিকিৎসককে সম্মান জানাতে এসেছি।’
চিকিৎসককে গোল্ড মেডেল দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘দুই সরকারি হাসপাতালে গিয়েও আমার সন্তানকে জরুরি চিকিৎসা করাতে পারিনি। এখানে এসে চিকিৎসা পেয়েছি। একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি যে দায়িত্ব পালন করেছেন, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা থেকেই আমি তাঁকে সম্মাননা দিতে এসেছি।’
একই সঙ্গে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসাসেবার মান ও সমন্বয় আরও উন্নত করার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
ডা. জয়ন্ত সাহা বলেন, শিশুটিকে খুবই অচেতন অবস্থায় জরুরি বিভাগে আনা হয়েছিল। তার খিঁচুনিও হচ্ছিল। এ সময় শিশুর ওজন নির্ণয় করে দ্রুত খিঁচুনি কমানোর ওষুধ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ‘ডাক্তার হিসেবে আমার দায়িত্বটুকুই করেছি। কখনোই চাই না কোনো শিশু এ ধরনের অবস্থায় আসুক। তবে এমন পরিস্থিতিতে এলে জরুরি বিভাগে যতটুকু সম্ভব প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করি।’
হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. জুলফিকার আহমেদ আমিন বলেন, শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে স্থিতিশীল করা হয়েছিল। পরে ঢাকায় নেওয়ার পর সিটি স্ক্যান করা হলে গুরুতর কোনো ক্ষতি পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, শিশুটির বাবা ডা. জয়ন্ত সাহাকে যে গোল্ড মেডেল দিয়েছেন, তা একজন অভিভাবকের পক্ষ থেকে চিকিৎসকের কাজের প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রকাশ। তাঁর মতে, এই সম্মাননা শুধু একজন চিকিৎসকের নয়, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত কাজের স্বীকৃতি।
প্রতিনিধি/আরএইচ