সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ শনিবার। বিএনপি নেতাকর্মীরা একসময় ১৫ আগস্ট ঘটা করে কেক কেটে তাঁর জন্মদিন পালন করতেন। কিন্তু ২০১৬ সাল থেকে তারা কোনো কর্মসূচি না দিয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করে আসছেন। আজও কেক কেটে জন্মদিন পালন না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সারাদেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করবে বিএনপি।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। প্রথম নারী হিসেবে তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন খালেদা জিয়া। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন ছিলেন।
শুক্রবার বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা বিবৃতিতে জানানো হয়, খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী পালনে আজ সারাদেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করবে বিএনপি। সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে অথবা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠান হবে এবং ঢাকায় হবে বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের এই কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। পরে বিকেলে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন রিজভী।
এদিকে খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আজ ঢাকায় দোয়া, মোনাজাত ও দরিদ্র-অসহায়দের মধ্যে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিকেল ৩টায় মহাখালী কড়াইল এলাকার টিঅ্যান্ডটি মাঠে এ অনুষ্ঠান হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে খালেদা জিয়া চতুর্থ। বাবা এস্কান্দার মজুমদার, মা বেগম তৈয়বা মজুমদার। পৈতৃক নিবাস ফেনীর ফুলগাজী হলেও তাঁর শৈশব-কৈশোর কেটেছে দিনাজপুরে বাবার কর্মস্থলে। ১৯৬০ সালের আগস্টে তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন খালেদা জিয়া। এ দম্পতির দুই সন্তান তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো।
১৯৮১ সালের ৩০ মে স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশি-বিদেশি চক্রান্তে বিপথগামী সৈন্যদের হাতে নিহত হন। এর পর রাজনীতির অঙ্গনে পা রাখেন গৃহবধূ খালেদা জিয়া। তিনি প্রথমে দলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।
১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে তিন দফা বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন খালেদা জিয়া। ওয়ান-ইলেভেনের পর মঈন-ফখরুদ্দীন সরকারের আমলে তিনি কারাবন্দি হন। এর পরে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির অভিযোগে কারাদণ্ড হলে আবারও বন্দি করা হয়।
করোনাভাইরাসের কারণে ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয় সরকার। ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরদিন ৬ আগস্ট খালেদা জিয়ার সাজা বাতিল করে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি। পরে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। টানা চার মাস চিকিৎসা শেষে ঢাকায় ফেরেন খালেদা জিয়া। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
দেশবার্তা/এমআর