বিএনপি প্রতিশ্রুতির রাজনীতিতে বিশ্বাসী দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দলটি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা ও তা বাস্তবায়ন করে। ৩১ দফা দিলে বিএনপির পক্ষে ৩২ দফা পর্যন্ত পূরণ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি দেশব্যাপী ইএফটি ও আইবিএএস এর মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ প্রদানের উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়।
শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও রূপান্তরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভূমিকা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উৎপাদনমুখী শিক্ষা এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার উদ্যোগ তাঁর আমলেই শুরু হয়েছিল। তিনি কারিগরি শিক্ষাসহ শিক্ষ খাতের বিভিন্ন আধুনিকায়নের পটভূমি স্মরণ করেন।
শিক্ষকদের কল্যাণে বিগত সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট তো আছেই, এর বাইরে একেক জন পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা অবসর সুবিধা পাবেন। এটা একজন দরিদ্র স্কুলশিক্ষকের জন্য, যিনি গ্রামে বসে আছেন, অনেক বেশি মাইনে রাখে।’
ডিজিটাল সুবিধায় সরাসরি ব্যাংকে অর্থ পৌঁছানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাড়িতে বসে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আইবিএস প্লাস প্লাসে ডিজিটালাইজড পদ্ধতিতে তার টাকা তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকছে, এক টাকাও কোথাও উৎকোচ দিতে হবে না।’
সরকারের সমসাময়িক কার্যক্রমের হিসাব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে গতকাল বলেছে, আগামী দুদিন পর সরকারের ১৮০ দিন পূর্ণ হবে, আপনারা কী কী বাস্তবায়ন করেছেন? এগুলো দেখে যান, বাস্তবায়ন করেছি। এটা আমাদের ইশতেহারে ছিল না। এটা ৩২ নম্বর।’
একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুলড্রেস বিতরণ কর্মসূচিকে ৩৩ নম্বর কাজ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি কৃষকদের কাছে কথা রেখেছেন। আপনি দরিদ্র মা-বোনদের ভোলেননি। আপনি ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছেন। আমাদের বিরোধীপক্ষ বলেছে, রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড। এখন তারাই প্রতিযোগিতা করছে ফ্যামিলি কার্ড কবে দেবেন!’
দেশের আর্থিক সঙ্গতির সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে সব মা-বোনের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
তৃণমূলের অর্থনীতিতে এই সহায়তার ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তার প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে অর্থনীতিতে গতির সঞ্চার হবে। মানি সার্কুলেশন হবে। বাজারের দ্রব্য সে কিনবে, সেই দ্রব্যের কারণে চেইন ইন্ডাস্ট্রিজগুলো চলবে এবং ওখানেও কর্মসংস্থান হবে। বৃহৎ লোন যারা নেয়, তারা হয়তো তছরুপ করে কিন্তু এই অর্থ দরিদ্র মা-বোনদের কাছে যখন যাবে, সে সেটা খরচ করবে ফ্যামিলির কল্যাণে এবং চেইন ইন্ডাস্ট্রিজগুলো গড়ে উঠবে।’
দারিদ্র্য দূরীকরণের ওপর জোর দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যোগ করেন, ‘তার আর্থিক সক্ষমতা হবে, ছেলে-মেয়েরা শিক্ষিত হবে, দেশের সম্পদ হবে। দরিদ্রকে যদি আপনারা দরিদ্রই রেখে দেন, জাতির কখনো কল্যাণ হবে না। মুক্তি হবে না।’
বর্তমান সরকারের গৃহীত এসব পদক্ষেপে পর্যায়ক্রমে দেশের সব নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশকে টেকসই উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাবে।
দেশবার্তা/একে