মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক সামগ্রী এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম পাঠিয়েছে রাশিয়া। এসব সামরিক রসদ ও গোলাবারুদের চালান নিয়ে দুই ডজনেরও বেশি রুশ জাহাজ কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে ইরানের আমিরাবাদ বন্দরে গিয়ে পৌঁছেছে।
গোয়েন্দা নথি ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি।
প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সাবেক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক জিম ল্যামসন বলেন, এ তথ্য থেকে দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়। প্রথমত, মস্কো ও তেহরান তাদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর করছে। দ্বিতীয়ত, মার্কিন বাহিনীর সামরিক অভিযানের কারণে ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে; অর্থাৎ দেশটির অস্ত্র তৈরি কেন্দ্রে মার্কিন হামলা সফল হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চালানে ব্যবহৃত জাহাজগুলো রুশ জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘এমজি-ফ্লোট’-এর তৈরি। বিতর্কিত ভূমিকার কারণে ২০২৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তেহরান ও মস্কোর মধ্যে ২০ বছর মেয়াদি ‘বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির শর্তানুসারে আগামী দুই দশক পর্যন্ত প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে পরস্পরকে পূর্ণ সহযোগিতা করার কথা উভয় দেশের।
এই চুক্তির আগে থেকেই অবশ্য রাশিয়ার সামরিক সহায়তায় এগিয়ে আসে ইরান। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীকে নিজেদের তৈরি ‘শাহেদ’ কামিকাজে (আত্মঘাতী) ড্রোন ও গোলাবারুদ নিয়মিত সরবরাহ করে আসছে তেহরান। রাশিয়াও নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব ড্রোনের মান ও ধ্বংসক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে।
তবে ইরানকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক সহায়তার বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ও পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। এনবিসির পক্ষ থেকে যোগাযোগের পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এই তথ্যকে সম্পূর্ণ ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
দেশবার্তা/একে