বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের মোট খরচের এক-তৃতীয়াংশই ব্যয় হয়েছে ইউরোপ মহাদেশে। ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের (ডব্লিউটিটিসি) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।
সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে অবসর ভ্রমণ ব্যয় আগের বছরের তুলনায় ৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬.১৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে এককভাবে ইউরোপীয় দেশগুলোতেই গেছে ২ ট্রিলিয়ন ডলার।
প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, চলতি বছর বৈশ্বিক গড় প্রবৃদ্ধির (৩.১ শতাংশ) সীমা ছাড়িয়ে ইউরোপের ভ্রমণ ব্যয় ৩.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। এ প্রবৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে মহাদেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশ ইতালি, স্পেন, তুরস্ক ও ফ্রান্স।
ডব্লিউটিটিসির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী গ্লোরিয়া গুয়েভারা জানান, দক্ষিণ ইউরোপই বর্তমানে বৈশ্বিক পর্যটন প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি। অনন্য ভ্রমণ অভিজ্ঞতা, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রতিযোগিতামূলক সেবার কারণে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকর্ষণ সেখানে উত্তরোত্তর বাড়ছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইউরোপের মধ্যে ইতালিতে সর্বোচ্চ ৪.৭ শতাংশ ভ্রমণ ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া স্পেনে ৪.৩ শতাংশ, তুরস্কে ৪.১ শতাংশ এবং ফ্রান্সে ২.৬ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষ গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে ইতালির ফ্লোরেন্স শহর। রেনেসাঁর জন্মভূমি ফ্লোরেন্সের বোবোলি ও বার্দিনি গার্ডেন প্রাচীন ইতালীয় ঐতিহ্যের স্বাক্ষর বহন করে। পিত্তি প্যালেসের পেছনের উন্মুক্ত উদ্যান, ফোয়ারা, ভাস্কর্য এবং ইউফিজি গ্যালারিতে মেডিচি পরিবারের সংগৃহীত মধ্যযুগের শিল্পকর্ম দেখতে পর্যটকরা ভিড় জমাচ্ছেন। পাশাপাশি স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতিও পর্যটকদের সমানভাবে আকর্ষণ করছে।
অন্যদিকে আমাডিউস ট্রাভেল ইন্টেলিজেন্স ও ইউএন ট্যুরিজমের তথ্যমতে, ইউরোপে সবচেয়ে বেশি অনুসন্ধান করা ও বুকিং পাওয়া গন্তব্য এখন স্পেন। দেশটির তিন হাজার বছরের পুরোনো পশ্চিম ইউরোপের প্রাচীনতম বন্দরনগরী ‘কাদিজ’ দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে।
সান সেবাস্টিয়ান ও সান্তা কাতালিনা দুর্গের মধ্যবর্তী লা কালেতা সৈকত, স্থানীয় সামুদ্রিক খাবার ‘ফ্রিতুরাস’ এবং গাদীর প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় সংরক্ষিত ফিনিশীয় সভ্যতার প্রাচীন স্থাপনা ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
দেশবার্তা/একে