নওগাঁর রাণীনগরে অভিযান চালিয়ে ৫টি চোরাই গরু উদ্ধার এবং ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। তবে গত এক মাসেও উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর প্রকৃত মালিকের সন্ধান পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে দেড় মাস আগে রাণীনগর থেকে চুরি যাওয়া ৩টি গরুর হদিস এখনও না মেলায় চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবার।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুলাই রাতে উপজেলার গোনা দিঘীরপার গ্রামের খোকন সরদারের গোয়ালঘরের তালা কেটে ৩টি গরু চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ১২ জুলাই থানায় মামলা দায়ের করা হলে ১৬ জুলাই অভিযান চালিয়ে আত্রাই উপজেলার কাশিয়াবাড়ী গ্রামের আসলাম আলীকে (৪৩) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে আসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২২ জুলাই আদমদীঘির গোলাম রাব্বানী (৩৯), নাটোরের সিংড়ার সুচন্দা রাজবংশী (২৭) ও সুজীত ওরফে অজিত চন্দ্র হালদারকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় অজিতের বাড়ি থেকে ৫টি গরু উদ্ধার করা হয়। তবে খোকন সরদার উদ্ধার হওয়া গরুগুলো শনাক্ত করতে গিয়ে জানান এগুলো তাঁর চুরি যাওয়া গরু নয়। পরবর্তীতে ২৯ জুলাই ময়মনসিংহ ও জয়পুরহাট এলাকা থেকে আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ভুক্তভোগী খোকন সরদারের স্ত্রী রূপালী আক্তার অভিযোগ করে জানান, গরু চুরির দেড় মাস পার হয়ে গেলেও পুলিশ এখনও তাদের চুরি যাওয়া ৩টি গরু উদ্ধার করতে পারেনি। পুলিশ যেগুলো উদ্ধার করে এনেছে সেগুলো তাদের নয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ জানান, আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১৬টি চোরাই গরু থাকার কথা থাকলেও অভিযান চালিয়ে ৫টি পাওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর প্রকৃত মালিকের সন্ধান এবং খোকন সরদারের চুরি যাওয়া ৩টি গরু উদ্ধারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বলেন, চুরি যাওয়া গরু উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। উদ্ধার করা ৫টি গরুর মধ্যে একটি গরু ইতিমধ্যে বাচ্চা দিয়েছে। প্রতিদিন এগুলোর খাবার ও পরিচর্যা নিয়ে পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। উপযুক্ত মালিক পাওয়া না গেলে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গরুগুলো নিলামে বিক্রি করা হবে।
প্রতিনিধি/একে