নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে এ পর্যন্ত ২৭০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নেপালের পুলিশ এ খবর জানিয়েছে। তবে এ ভয়াবহ দুর্যোগে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কাঠমান্ডুতে নেপাল দূতাবাসে কর্মরত বাংলাদেশের একাধিক কূটনীতিক গণমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশ দূতাবাস নেপালের সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে গতকাল বুধবার কাঠমান্ডু-পোখারা মহাসড়ক বন্ধ থাকায় কিছু বাংলাদেশি নাগরিক আটকা পড়েছিলেন। পরে সড়ক যোগাযোগ চালু হলে তাঁরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছান। দূতাবাস নেপাল সরকারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বজায় রেখেছে এবং বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত যেকোনো সাহায্য-সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়া এবং উভয় দেশের মধ্যে এ–সংক্রান্ত মতবিনিময়ে সমন্বয় করছে।
অন্যদিকে নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় দুর্যোগে এ পর্যন্ত ২৭০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। রয়টার্সের খবরে নেপালের পর্যটন কর্মকর্তা ও পুলিশ জানায়, নেপাল ও তিব্বতে এ পর্যন্ত ১৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছে। এর মধ্যে ৮০০ জনের বেশি বিদেশি পর্যটক।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নেপালে অন্তত ৫৪ জন মার্কিন পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। নেপালকে ৫ লাখ ডলারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বন্যাকবলিত জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি আশ্রয়, পানি, স্যানিটেশন ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী সরবরাহে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ জানান, ৩৪ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। প্রথম আলোর কলকাতা প্রতিনিধি জানান, এ ঘটনায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ১০৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে কলকাতার ৩২ জন।
দেশবার্তা/এমআর