দেশের সর্বউত্তরের পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার চতুর্দেশীয় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠার প্রায় ২৮ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রত্যাশিত ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটেনি। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পণ্য পরিবহনে উচ্চ ব্যয় এবং রেল যোগাযোগ না থাকায় অনুমোদিত সব ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে আগ্রহ কম। ফলে বন্দরটি এখনও মূলত পাথর আমদানির ওপর নির্ভরশীল।
নেপাল, ভুটান, চীন ও ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৭ সালে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এরপর থেকে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে সীমিত পরিসরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলছে। ২০১৮ সালে এখানে পূর্ণাঙ্গ ইমিগ্রেশন কার্যক্রম চালু হয়। তবে এখন পর্যন্ত চীনের সঙ্গে এ বন্দর দিয়ে কোনো বাণিজ্য শুরু হয়নি।
বর্তমানে ভারত ও ভুটান থেকে পাথর এবং নেপাল থেকে সীমিত পরিসরে মসুর ডাল আমদানি করা হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে সিরামিকস, কটন, পাট, কাঁচ ও জুসজাতীয় পণ্য রপ্তানি হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা জানান, এ বন্দর দিয়ে অনুমোদিত সব ধরনের পণ্য আমদানির সুযোগ থাকলেও পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা হিলি, সোনামসজিদ ও বুড়িমারী স্থলবন্দর ব্যবহার করছেন। ফলে বাংলাবান্ধা বন্দরে বাণিজ্যের পরিধি বাড়ছে না।
তারা আরও জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ভারতে লোকসভা নির্বাচনের পর ভারত থেকে পাথর আমদানি কমে যায়। বর্তমানে ভারত থেকে পাথর আমদানি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র ভুটান থেকে পাথর আমদানি হচ্ছে।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের লোড-আনলোড শ্রমিক সোহেল বলেন, “সব ধরনের পণ্য আমদানি না হওয়ায় বন্দরের কাজ কমে গেছে। অনুমোদিত সব পণ্য আমদানি হলে রাজস্ব যেমন বাড়বে, তেমনি আমাদের কর্মসংস্থানও বাড়বে।”
মোটর পরিবহন শ্রমিক বশির জামালও একই ধরনের মত প্রকাশ করেন।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট নুর ইসলাম ও মেহেদী বলেন, “পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এ বন্দর ব্যবহার করতে আগ্রহী নন। সব ধরনের পণ্যের আমদানি-রপ্তানি শুরু হলে ব্যবসার প্রসার ঘটবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে।”
আমদানিকারক মূসা বলেন, “অন্যান্য বন্দরের তুলনায় এ বন্দর দিয়ে পরিবহন ব্যয় বেশি। দেশের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপিত হলে ব্যবসার পরিধি অনেক বাড়বে।”
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ বলেন, “বর্তমানে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টি ট্রাকে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে। ভারতের পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় এখন শুধু ভুটান থেকে পাথর আসছে। অনুমোদিত সব পণ্যের আমদানি-রপ্তানি শুরু হলে বাণিজ্য যেমন বাড়বে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।”
পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক এবং তেঁতুলিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহাদৎ হোসেন রঞ্জু বলেন, “বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ভৌগোলিকভাবে চারটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সড়কপথে পণ্য পরিবহনের ব্যয় বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা পুরোপুরি এ বন্দর ব্যবহার করছেন না। দেশের অন্যান্য জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপন করা হলে পরিবহন ব্যয় কমবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং চতুর্দেশীয় বাণিজ্যের সম্ভাবনাও বাস্তবে রূপ নেবে।”
তিনি এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সরকারের রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
প্রতিনিধি/আরএইচ