মেঘনা নদীর ২৪১ একর দখল, সত্যতা পেল নদী রক্ষা কমিশন

দেশবার্তা প্রতিবেদক

জাতীয়

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীর প্রায় ২৪১ একর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে মেঘনা গ্রুপের বিরুদ্ধে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের

2026-08-31T18:19:47+06:00
2026-08-31T18:19:47+06:00
সোমবার ● ৩১ আগস্ট ২০২৬,
১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
 ইপেপার   ভিডিও 

সোমবার ● ৩১ আগস্ট ২০২৬
চলমান বার্তা:
জাতীয়
মেঘনা নদীর ২৪১ একর দখল, সত্যতা পেল নদী রক্ষা কমিশন
দেশবার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৯ পিএম 
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীর প্রায় ২৪১ একর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে মেঘনা গ্রুপের বিরুদ্ধে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের প্রায় দুই বছরব্যাপী তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। নদীর দখল করা জমি দ্রুত উদ্ধার করে স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।

১২ সদস্যের তদন্ত কমিটি সরেজমিন তদন্ত শেষে প্রতিবেদনটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেঘনা গ্রুপের সাতটি প্রতিষ্ঠান নদীর প্রায় ২৪১ দশমিক ২৭ একর জমি দখল করেছে। এর মধ্যে ৮৪ দশমিক ৭৭ একর জমিতে বিভিন্ন স্থাপনা ও মূল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ৫ দশমিক ৫ একর জমিতে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, দখল করা নদীর জমি দ্রুত উদ্ধার করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নদী রক্ষায় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মো. আলাউদ্দিন বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের আলোকে জেলা প্রশাসন নদীর জমি উদ্ধারে ব্যবস্থা নেবে।

তদন্ত কমিটি ২০১৯ সালের অক্টোবরে কাজ শুরু করে। পরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে তদন্ত কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য বাধাগ্রস্ত হয়। এরপর আবার তদন্ত শুরু হয়। কমিটির সদস্যরা সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যের বাজার, হোসেনপুর ও পিরোজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চর রমজান, সোনাউল্লাহ, পূর্ব দামোদরদী, পশ্চিম দামোদরদী, দুধঘাটা, টেঙ্গরচর, ছয়হিস্যা, নরসুলদী, আষাঢ়িয়ারচর ও ঝাউচর এলাকায় নদীর জমি ভরাট করে মেঘনা গ্রুপের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

সরেজমিন পরিদর্শনের সময় তদন্ত কমিটি মেঘনা পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলস, সুগার রিফাইনারি, ফ্রেশ সুগার, কেমিক্যাল কারখানা, ফ্রেশ সিমেন্টসহ বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করে। এসব স্থাপনার কয়েকটি নদীর মূল ভূমি, তীরবর্তী এলাকা ও প্লাবনভূমির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মেঘনা নদীর শাখা মারাখালী নদীর উত্তর ও দক্ষিণ অংশের তীর থেকে নদীর ভেতরে প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত দখলের অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে। বিভিন্ন এলাকায় নদীর জমি ভরাট করে সীমানাপ্রাচীর, স্থাপনা ও জেটি নির্মাণের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, নদীর জমি ভরাটের কারণে মেঘনা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নদী ও আশপাশের জলাভূমির পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং নিম্নাঞ্চলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ভূমি রেকর্ডের বিষয়টিও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। ভূমি অফিসের বক্তব্য অনুযায়ী, সিএস রেকর্ডে মেঘনা গ্রুপের দখলে থাকা অনেক জমিকে নদীর জমি হিসেবে দেখানো হয়েছে। আরএস রেকর্ডে কিছু জমি খাস হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার পর তা অন্যের কাছে বিক্রির ক্ষেত্রে প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী সরকারের নির্ধারিত অংশের অর্থ পরিশোধের বিধান রয়েছে। কিছু জমির ক্ষেত্রে এ বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে তদন্ত কমিটি। মেঘনা গ্রুপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জেটি রয়েছে। এসব জেটির জন্য বিআইডব্লিউটিএর অনুমতির বিষয়টিও তদন্ত প্রতিবেদনে এসেছে। তবে নদীর জমিতে স্থাপিত দুটি জেটির লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি বলে বিআইডব্লিউটিএর বক্তব্য প্রতিবেদনে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

এ ছাড়া মেঘনা গ্রুপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে। নদীর জমি বা প্লাবনভূমিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং সেখান থেকে তরল বর্জ্য নদীতে পড়লে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।

নদীর জমি উদ্ধার ও স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে তদন্ত কমিটি ১২টি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে দ্রুত নদীর জমি চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং নদী রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার বিষয় রয়েছে।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর মেঘনা নদী দখল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লিখিত সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে নদী দখলমুক্ত করা আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের প্রতিবেদন তাঁদের হাতে এখনো পৌঁছায়নি। তবে এ বিষয়ে কমিশনের সঙ্গে সভা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ইতিমধ্যে মেঘনা গ্রুপের দখলে থাকা নদী ও নদীতীরবর্তী সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দখলের বিষয়ও তালিকাভুক্ত করে নদীর জমি উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশবার্তা/কেএ/একে


সর্বশেষ সংবাদ 

প্রবল স্রোতের মধ্যেও নেপালে যেভাবে টিকে রইল সেই ‘সবুজ বাড়ি’
নওগাঁয় ৪২ কেজি গাঁজাসহ মাদককারবারি গ্রেফতার
এবার ১৯ বছরের ছোট ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন মালাইকার
নবম পে-স্কেল অনুমোদন, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন কত?
ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১১৬৩

সর্বাধিক পঠিত 

কমিশন-বাণিজ্যে জিম্মি রেলের পূর্বাঞ্চল চিফ ইঞ্জিনিয়ার দপ্তর
গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় ‘উপশম প্লাস’-এর স্মার্ট টেলিমেডিসিন উদ্যোগ
অনুমোদনের পথে আটটি ডিজিটাল ব্যাংক
কদমতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিসহ চারজন গ্রেপ্তার
পটুয়াখালীতে আইফোন কিনতে সন্তানকে বিক্রি করলেন বাবা
জাতীয়- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]