এআই ক্যামেরার নজরদারিতে মহাসড়কে মামলা কমেছে ৯২ শতাংশ

দেশবার্তা ডেস্ক

জাতীয়

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালুর পর প্রথম ১০ দিনে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায়

2026-08-31T13:45:30+06:00
2026-08-31T13:45:30+06:00
সোমবার ● ৩১ আগস্ট ২০২৬,
১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
 ইপেপার   ভিডিও 

সোমবার ● ৩১ আগস্ট ২০২৬
চলমান বার্তা:
জাতীয়
প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালুর প্রভাব
এআই ক্যামেরার নজরদারিতে মহাসড়কে মামলা কমেছে ৯২ শতাংশ
চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মানার প্রবণতা বৃদ্ধির তথ্য পুলিশের
দেশবার্তা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৫ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালুর পর প্রথম ১০ দিনে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বয়ংক্রিয় মামলার সংখ্যা ৯২ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমেছে। হাইওয়ে পুলিশের দাবি, এআই ক্যামেরার সার্বক্ষণিক নজরদারির কারণে চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতা বেড়েছে, যা মহাসড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে।

ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যানবাহন ও চালকের বিরুদ্ধে কার্যকর, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে গত ১৮ আগস্ট হাইওয়ে পুলিশ এআই ক্যামেরাভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করে। নারায়ণগঞ্জের মেঘনায় প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। উদ্বোধনের দিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৪৪৬টি মামলা হয়। পরদিন তা কমে দাঁড়ায় ৪২টিতে। দশম দিনে মামলা হয়েছে ৩৪টি।

হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৬৯৫টি স্বয়ংক্রিয় মামলা হয়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর দায়ে ৬৫৮টি এবং উল্টোপথে চলাচলের কারণে ৩৭টি মামলা হয়েছে। প্রথম দিনে অতিরিক্ত গতির জন্য ৪১৭টি এবং উল্টোপথে চলার জন্য ২৯টি মামলা হয়। 

পরদিন মামলার সংখ্যা ৯০ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে ৪২টিতে নেমে আসে এবং সেদিন উল্টোপথে চলাচলের কোনো ঘটনা শনাক্ত হয়নি। পরবর্তী দিনগুলোতেও মামলার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার উল্টোপথে চলাচলের কোনো মামলা হয়নি। বুধবার অতিরিক্ত গতির জন্য ১৯টি এবং বৃহস্পতিবার ৩৪টি মামলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মহাসড়কের প্রতিটি স্থানে সার্বক্ষণিক ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা সম্ভব নয়। আগে অনেক চালক পুলিশ উপস্থিত থাকলে আইন মেনে চললেও পুলিশ না থাকলে তা অমান্য করতেন। এআই ক্যামেরার সার্বক্ষণিক নজরদারির ফলে সেই সুযোগ কমেছে এবং চালকদের মধ্যে আইন মেনে চলার অভ্যাস তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধ শনাক্ত হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে মামলা এড়ানোর সুযোগও থাকছে না। যানবাহনের নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তথ্য পাঠানো হচ্ছে এবং জরিমানা পরিশোধ করতে হচ্ছে।

হাইওয়ে পুলিশের ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত ২৫০ কিলোমিটার মহাসড়কের দুই পাশে ৪৯০টি খুঁটিতে এক হাজার ৪২৭টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ক্যামেরাগুলো নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে একটি ডেটা সেন্টার ও পাঁচটি তদারকি কেন্দ্রের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি মহাসড়কে ডাকাতি, ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধও এসব ক্যামেরায় শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

তবে চালকরা বলছেন, শুধু এআই ক্যামেরা বসালেই মহাসড়কে শতভাগ শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। শ্যামলী পরিবহনের মহাব্যবস্থাপক সেলিম রেজা বলেন, এআই ক্যামেরা চালুর পর তাদের সব চালককে লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ট্রাফিক আইন মেনে গাড়ি চালাতে হবে। অন্যথায় ভিডিও মামলা হলে জরিমানা চালককেই বহন করতে হবে।

হানিফ পরিবহনের চালক শাহেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘এআই ক্যামেরা লাগানোর উদ্যোগ খুবই ভালো। তবে মহাসড়কে জেব্রা ক্রসিং, সিগন্যাল ব্যবস্থা, ফুট ওভারব্রিজ যথাযথ সংস্কার করতে হবে। পথচারীরা যাতে যত্রতত্র সড়কে উঠে না পড়েন, সে বিষয়ে তাদের সচেতন হতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সড়কে অটোরিকশা, টমটম ও ব্যাটারিচালিত রিকশা বেপরোয়া চলাচল করে। এ কারণে ঝুঁকিতে পড়তে হয়।’

ইউনিক পরিবহনের চালক মোহাম্মদ হাশেম বলেন, ‘ভিডিও মামলা চালু হওয়ার পর রাস্তায় আগের চেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হচ্ছে। ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটারের বেশি গাড়ি চালালে মামলা হচ্ছে। কিন্তু ৮০ কিলোমিটার গতিতে চালালে অনেক যাত্রী দ্রুত চালানোর জন্য চাপ দেন।’

হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ বলেন, ‘১৮ আগস্ট এআই ক্যামেরা উদ্বোধনের আগে পরীক্ষামূলক চালানো হয়েছে। তখন মামলা সংখ্যা প্রতিদিন চার শতাধিক ছিল। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেও ৪শর বেশি মামলা হতো। তবে এআই ক্যামেরা চালুর পর আমরা দেখছি, প্রতিনিয়ত মামলার সংখ্যা কমছে। প্রথম দিন মামলার যে সংখ্যা ছিল, এর থেকে অনেক কমে এসেছে। এখন মামলার সংখ্যা ৪০-এর নিচে থাকছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মামলার সংখ্যা কমার পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে। চালকরা সতর্ক হয়েছে। তারা গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করার কারণে সড়কে শৃঙ্খলা আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে।’ তথ্যসূত্র: সমকাল

দেশবার্তা/একে


সর্বশেষ সংবাদ 

নতুন জীবনের ঘোষণা মিষ্টি জান্নাতের, বরকে আড়ালেই রাখলেন
স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বগুড়ায় ব্যবসায়ী হৃদয় হত্যা: দুইজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন
হাম উপসর্গে আরও ৬ প্রাণহানি, আক্রান্ত ১২৫৬
সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের শরীরে ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব পায়নি পুলিশ

সর্বাধিক পঠিত 

কমিশন-বাণিজ্যে জিম্মি রেলের পূর্বাঞ্চল চিফ ইঞ্জিনিয়ার দপ্তর
গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় ‘উপশম প্লাস’-এর স্মার্ট টেলিমেডিসিন উদ্যোগ
অনুমোদনের পথে আটটি ডিজিটাল ব্যাংক
কদমতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিসহ চারজন গ্রেপ্তার
পটুয়াখালীতে আইফোন কিনতে সন্তানকে বিক্রি করলেন বাবা
জাতীয়- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]