তুরস্কে মক্কা জোটরে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জোটের কৌশলগত, রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক কমিটির অংশ নেয়। টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে তুরস্ক ছাড়াও সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, এই জোট আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার এবং অনিশ্চয়তা কমাতে সহায়তা করবে। ধীরে ধীরে অঞ্চলটিতে আরও বেশি স্থিতিশীলতা তৈরি হবে এবং অনিশ্চয়তা কমবে।
কমিটির বৈঠকটি হয় অটোমান আমলের একটি প্রাসাদে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। এটি মিসরসহ অন্য দেশগুলোর জন্যও উন্মুক্ত।
হাকান ফিদান সাংবাদিকদের বলেন, এই জোট রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান এবং তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার মতো আন্তর্জাতিক নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
সম্প্রতি ইসরায়েল জানিয়েছে, গ্রিসের জন্য ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ নামে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপনে এথেন্সের সঙ্গে ৩ বিলিয়ন ইউরোর একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এছাড়া, তুরস্ককে কৌশলগত হুমকি হিসেবেও উল্লেখ করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এমন সময়ই মক্কা জোটের কমিটির প্রথম বৈঠক হলো।
এ প্রসঙ্গে হাকান ফিদান বলেন, ‘নেতানিয়াহু মানবতা, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও নিরাপত্তার অভিন্ন শত্রুতে পরিণত হয়েছেন। তিনি এখন গুরুত্ব দেওয়ার মতো ব্যক্তি নন। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে নেতানিয়াহুর হুমকির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।’
নতুন সদস্য নেওয়া
জোটটি প্রতিষ্ঠিতই হয়েছে সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে। নতুন গঠিত কমিটি জোটের রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কর্মসূচি এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে বলে বৈঠক শেষে জানিয়েছেন ফিদান।
মিসরসহ অন্য দেশগুলো এই চুক্তিতে যোগ দিতে পারবে কি না, জানতে চাইলে ফিদান বলেন, ‘এটি অবশ্যই সম্ভব।’ তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সদস্য হওয়ার শর্ত, প্রক্রিয়া ও মানদণ্ড নির্ধারণে আলোচনা এখনও চলছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জোটে যোগদানের প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা একটি রোডম্যাপ তৈরির বিষয়েও কাজ করছি।’
দেশবার্তা/এমআর