নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জামায়াত নেতারা বলেন, একজন শিক্ষক এমপিওভুক্ত হয়েও সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করতে পারবেন, কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না— এটা হতে পারে না। এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এর আগে মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে দলটির ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ইসির সঙ্গে দেখা করে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়াসহ নয় দফা লিখিত দাবি তুলে ধরা হয়। বৈঠকে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য যে তফসিল ঘোষণা হতে যাচ্ছে বলে আমরা ধারণা করছি, তার পরিপ্রেক্ষিতে সুনির্দিষ্ট নয়টি দাবি আমরা আজ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে হস্তান্তর করে গেলাম। সেগুলো নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এর কিছু দাবি আগেও আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছিলাম। সেগুলো নিয়ে তারা কতটা চিন্তাভাবনা করছেন, সেটা নিয়েও আমরা আজ আলোচনা-পর্যালোচনা করেছি, জানার ও বোঝার চেষ্টা করেছি।
তিনি বলেন, দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষক যারা বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত, তাদের সংখ্যা হবে আনুমানিক ৩০ হাজারের বেশি। সুদীর্ঘকাল থেকে বাংলাদেশের সব নির্বাচনে তারা অংশ নিতে পারেন। রাজনীতি করতে পারেন, ভোট দিতে পারেন। সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এমপিওভুক্ত অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। অথচ নির্বাচন কমিশন তাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য বলে সুপারিশ করেছে। বিগত দিনেও আমরা এটার প্রচণ্ড আপত্তি করেছি। এই সুপারিশ আমরা বাতিল করতে বলেছি। এটা বাতিল করতে হবে। কেননা, এতে সরাসরি আইন ও সংবিধানের লঙ্ঘন এবং বৈষম্য করা হচ্ছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারী নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বন্ধ রাখার দাবি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এটা পাবলিক পারসেপশন। রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো দলের পদ-পদবি ধারণ করছেন, এমন কোনো ব্যক্তির এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত নয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলম, যিনি বিএনপির নির্বাচনবিষয়ক একটি উপকমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছি আমরা। সরকারি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে একটি রাজনৈতিক নিয়োগ সম্পূর্ণ সংবিধানবিরোধী ও আইনের লঙ্ঘন। তবে নির্বাচন কমিশন বলেছে, সরকারকে এ মতামত জানাবে তারা। যেহেতু সরকার এই নিয়োগের কর্তৃপক্ষ।’
দেশবার্তা/এমআর