মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম এক শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১ ডলার ছাড়িয়েছে। এর আগের দিনও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টায় নভেম্বরে সরবরাহের জন্য এই তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৯১.৪৪ ডলার, যা সোমবার বাজার বন্ধের সময় ছিল ৮৮ ডলারের কিছু বেশি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এক মাসেরও বেশি সময় পর আবারও হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হওয়ায় তেলের বাজারে এই উর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালায়। এর জবাবে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত দুটি ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা জানায় ইরান।
সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের কঠোরভাবে আঘাত করব।’
এদিকে, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে তিনটি অজ্ঞাত বস্তু আঘাত করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস। এই ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও সংঘাতের আশঙ্কায় প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘মেরিনট্রাফিক’ এর তথ্য অনুযায়ী, ২৪ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে ১০৭টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা তার আগের সপ্তাহে ছিল ১২১টি। সংঘাতের আগে এই পথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত। হামলা ও নৌবাহিনীর বাধা এড়াতে বর্তমানে অনেক জাহাজ তাদের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এআইএস) বন্ধ রেখে ‘ডার্ক শিপ’ হিসেবে চলাচল করছে, যা জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
এমএসটি ফাইন্যান্সিয়ালের জ্বালানি গবেষণা প্রধান সল কাভোনিক জানান, হরমুজ প্রণালি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে। বাজার একটি দীর্ঘস্থায়ী ‘না যুদ্ধ, না শান্তি’ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে এবং এ সংকট ২০২৭ সাল পর্যন্ত গড়ালেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
অন্যদিকে আইজি মার্কেটসের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর মনে করেন, স্বল্প মেয়াদে তেলের দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি থাকলেও সপ্তাহের শেষ নাগাদ সামরিক উত্তেজনা কমলে তেলের ওপর তৈরি হওয়া এই অতিরিক্ত ভূরাজনৈতিক মূল্য চাপ দ্রুত নেমে আসতে পারে।
উল্লেখ্য, গত আগস্টের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর থেকেই বিশ্ব জ্বালানি বাজারে মারাত্মক অস্থিরতা বিরাজ করছে।
দেশবার্তা/একে