বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব ম্যানেজিং কমিটির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার বিতর্কিত রেজুলেশন বাতিল করা হয়েছে। ফলে আগের মতোই বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) অধীনে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিবন্ধন অর্জন ও নিয়োগ সুপারিশের পদ্ধতি বহাল থাকছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে সভায় এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান আলিফ রুদাবা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব হেলালুজ্জামান সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অংশ নেওয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষক নিয়োগ ও নিবন্ধন পরীক্ষা আগের নিয়মেই অনুষ্ঠিত হবে। পূর্বের নেওয়া বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি বাতিল করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে শিগগিরই নতুন পরিপত্র জারি করা হবে।
এর আগে গত ৩ আগস্ট শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছিল, এনটিআরসিএ আর এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে না। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেবল নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করার কথা বলা হয় এবং ১৮তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীকে স্ব-উদ্যোগে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
উক্ত সিদ্ধান্তের কার্যবিবরণী গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র তোলপাড় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঢাকা, জগন্নাথ, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
এছাড়া বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াত, এনসিপি, ছাত্রশক্তি, ছাত্রশিবির এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শিক্ষক সংগঠন এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী এক বিবৃতিতে তখন জানিয়েছিলেন, আলোচনা ও রেজুলেশন হলেও এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত সেই বিতর্কিত রেজুলেশন বাতিল করে এনটিআরসিএর মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগের আগের সিদ্ধান্তেই ফিরে এলো সরকার।
দেশবার্তা/একে