সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে করদাতার অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, চারটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না হলে কোনো প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না এবং সরকারি অর্থের অপচয় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস (প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী) উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রী হিসেবে কোনো প্রজেক্ট পাস করার আগে আমি চারটি বিষয় নিশ্চিত করি। প্রথমত সেখানে অর্থের সঠিক মূল্য আছে কি না; দ্বিতীয়ত এই বিনিয়োগ থেকে কী রিটার্ন বা প্রতিদান আসছে; তৃতীয়ত এটি কর্মসংস্থান তৈরি করছে কি না এবং চতুর্থত পরিবেশগত দিক রক্ষা করা হচ্ছে কি না। এই চার শর্ত পূরণ না করলে আমার কাছে কোনো প্রজেক্ট আনবেন না, আমি ফেরত পাঠিয়ে দেব। কারণ এগুলো বাংলাদেশের সাধারণ করদাতাদের টাকা, কোনো অবস্থাতেই এই টাকার অপচয় মেনে নেওয়া হবে না।
আইটি খাতে বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রী থাকাকালে প্রায় ২৪ বছর আগে ঢাকায় প্রথম একটি আইটি ইনকিউবেটর স্থাপন করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিক উদ্যোগ ও তদারকির অভাবে এর পূর্ণ সুফল পাওয়া যায়নি। চুয়েটেও আইটি ইনকিউবেটরে বড় বিনিয়োগ হয়েছে। এ বিনিয়োগ থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে কি না, তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর বিশ্ববিদ্যালয়, আইসিটি মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) যৌথ নিয়ন্ত্রণ থাকলে কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়। যেহেতু এটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরের বিষয়, তাই এর পরিচালনা চুয়েটের হাতেই থাকা উচিত। পাশাপাশি এখান থেকে কী ধরনের ফল পাওয়া যাবে, সেই পরিকল্পনাও বিশ্ববিদ্যালয়কেই করতে হবে।
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় ফিরে আইসিটি মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির সঙ্গে আলোচনা করবেন। একই সঙ্গে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে চুয়েটের উপাচার্যকে ঢাকায় এসে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করার পরামর্শ দেন তিনি।
চুয়েটের উপাচার্যের উদ্যোগের প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে তাঁর বেশ কিছু ভালো পরিকল্পনা রয়েছে এবং তিনি চ্যালেঞ্জ গ্রহণে প্রস্তুত। প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে চুয়েটকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দেশবার্তা/একে