কঙ্গোয় ইতিহাসের দ্রুততম বিস্তার লাভ করা ইবোলা প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজারের বেশি মানুষ। মারা গেছেন ২ হাজার ৯১১ জন।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩১ আগস্ট) কর্তৃপক্ষ জানায়, আক্রান্তদের মধ্যে ১ হাজার ৩৬০ জনের বেশি সুস্থ হয়েছেন, যা তারা ‘উৎসাহব্যঞ্জক’ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
পূর্ব কঙ্গোয় নিরাপত্তাহীনতা, বাস্তুচ্যুতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মঘট এবং মানুষের ব্যাপক স্থানান্তরের কারণে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। গত সপ্তাহে এ অঞ্চলের আরও দুটি নতুন স্বাস্থ্য এলাকায় ইবোলা শনাক্ত হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে এবং এ প্রাদুর্ভাব ২০১৪-১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা সংকটকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ওই প্রাদুর্ভাবে ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যাদের বেশির ভাগই ছিলেন গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনের বাসিন্দা।
এদিকে, গত শনিবার ইতুরি প্রদেশের মামবাসা শহরের উপকণ্ঠে একটি মরদেহ নিরাপদে সরিয়ে নিতে যাওয়া ইবোলা মোকাবিলা দলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
বার্তা সংস্থা এপি’কে দলের এক প্রতিনিধি জানান, মাশেটি হাতে একদল তরুণ দাফনের স্থানটিতে হামলা চালালে সদস্যরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এতে একজন আহত হন।
ইবোলা মোকাবিলা দলের সদস্য ফ্লোরিবার্ট মাজেনে বলেন, ‘মাঠে কাজ করতে এবং জীবন ঝুঁকিতে না ফেলে দায়িত্ব পালনের জন্য আমরা আরও নিরাপত্তা দাবি করছি।’
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইবোলায় মৃত ব্যক্তির মরদেহ অত্যন্ত সংক্রামক হতে পারে। মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি ও শেষকৃত্যে মানুষের সমাগমের মাধ্যমে ভাইরাসটি আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে সন্দেহভাজন আক্রান্তদের মরদেহ দাফনের দায়িত্ব অনেক ক্ষেত্রে সরকার নিজেই পালন করছে। তবে এ নিয়ে স্বজনদের মধ্যে বিক্ষোভও দেখা দিচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলার বিরল ধরন বান্দিবুগিও ভাইরাস, যার বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা চিকিৎসা নেই। তবে গত সপ্তাহে স্বাস্থ্যকর্মীসহ সম্মুখসারির কর্মীদের ইরভেবো টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে বান্দিবুগিও ভাইরাসের জন্য টিকা উদ্ভাবনে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে।
চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি ইবোলা প্রাদুর্ভাবের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হলেও কর্মকর্তাদের ধারণা, ফেব্রুয়ারি থেকেই সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করেছিল। শুরুতে তিনটি এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে প্রায় ৬০টি এলাকায় ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে জনসমাগম সীমিত করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং বিমানবন্দর বন্ধসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবু প্রতিবেশী উগান্ডায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে বলে সতর্ক করেছে ডব্লিউএইচও।
দেশবার্তা/একে