ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ থাইল্যান্ডের পাতায়ায় নোঙর করতে যাচ্ছে। পাঁচ হাজার সেনাবহনকারী এই রণতরীটি মঙ্গলবার রাতে পাতায়ায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে মার্কিন সেনারা এসে পৌঁছানোর আগেই পর্যটন নগরীটিতে যৌনকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের (১ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাতায়া প্রশাসন ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ জন যৌনকর্মীকে আটক করেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, দীর্ঘ সাগরে থাকা মার্কিন সেনারা এখানে এসে বিভিন্ন নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারেন।
স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন সেনাসংখ্যা বেশি হওয়ায় হঠাৎ যৌনকর্মীদের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে অপব্যবহার এবং শারীরিক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এ অভিযান চালানো হচ্ছে।
সংবাদ সংস্থাটির সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২১ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করে আব্রাহাম লিংকন। প্রথমে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মোতায়েন করা হলেও ইরান যুদ্ধ শুরুর এক মাস আগে, গত জানুয়ারিতে এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়। সেখানে রণতরীটির সেনারা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
দীর্ঘ যুদ্ধের মাঝে রণতরীটি অল্প সময়ের জন্য গুয়াম ও ওমানে নোঙর করলেও টানা ২০০ দিনেরও বেশি সময় এটি যুদ্ধক্ষেত্রেই অবস্থান করছিল। দীর্ঘ সময় টানা সাগরে অবস্থান করার ফলে রণতরীতে থাকা সেনাদের মধ্যে তীব্র অবসাদ ও মানসিক জটিলতা দেখা দেয়। এমনকি কয়েকজন সেনা আত্মহত্যার চেষ্টাও চালান।
সম্প্রতি এক সেনা সদস্য সরাসরি সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার পর মার্কিন কর্তৃপক্ষ রণতরীটিকে স্বদেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। সান দিয়েগোতে ফিরে যাওয়ার পথে ক্রুদের সাময়িক বিশ্রামের অংশ হিসেবে রণতরীটিকে থাইল্যান্ডের পাতায়ায় বিরতি দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনার আগমনকে কেন্দ্র করে পাতায়ার স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে সাময়িক চাঙ্গাভাব আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পাতায়ার মেয়র পোরামাস নাগামপিচেস জানান, রণতরীর প্রত্যেক সেনা সদস্য প্রায় এক হাজার থেকে তিন হাজার থাই বাথ পর্যন্ত খরচ করতে পারেন বলে তারা ধারণা করছেন। এর ফলে শহরের পর্যটন ও স্থানীয় ব্যবসায় স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক গতিশীলতা আসবে।
দেশবার্তা/একে